পাঞ্জাবের ৯০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল একেবারে জিরো! বিরোধীদের তুলোধোনা করে বড় ঘোষণা ভগবন্ত মানের

রাজ্যের বড় অংশের সাধারণ মানুষকে বিরাট স্বস্তি দিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দাবি করলেন যে, বর্তমানে তাঁদের সরকারের জনকল্যাণমূলক নীতির জেরে রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারেরই মাসিক বিদ্যুৎ বিল এখন শূন্য বা জিরো হয়ে গিয়েছে। জলন্ধরের কর্তারপুর নির্বাচনী এলাকার কাহলওয়ান গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল ‘লোক মিলানি’ জনসভা থেকে বিরোধী দলগুলোকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি নিজের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
মেধার ভিত্তিতে চাকরি ও সরকারি উদ্যোগ
এদিনের জনসভা থেকে শুধু বিদ্যুৎ বিল মওকুফের কথাই নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মান। জলন্ধরের পিএপি গ্রাউন্ডে ১,৭৪৬ জন নতুন যুবককে পুলিশে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তাঁদের বর্তমান সরকারের আমলে মেধার ভিত্তিতে সর্বমোট ৭০,৮৪০ জন যুবক সরকারি চাকরি পেয়েছেন। কোনো ধরনের ঘুষ বা সুপারিশ ছাড়াই সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা নিজেদের যোগ্যতায় এই চাকরি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যের যুবসমাজকে বিদেশে না গিয়ে ঘরের মাটিতেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কৃষকদের স্বার্থে নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মান বলেন, খালের দিকে জল প্রবাহিত করে কৃষকদের জন্য শুধু রাতে নয়, এবার দিনের বেলাতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রতি মাসে প্রতিটি পরিবারকে ৩০০ ইউনিট (দুই মাসে ৬০০ ইউনিট) বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ফলে আজ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই সহজ হয়েছে। শ্রী গোইন্দওয়াল সাহেব তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বেসরকারি সংস্থার হাত থেকে ফিরিয়ে সরকারি মালিকানায় নিয়ে আসাকে তিনি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে চড়া সুর
পূর্ববর্তী সরকারগুলির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মান অভিযোগ করেন যে, আগের দিনের শাসকরা নিজেদের প্রাসাদ থেকে বাইরে বের হতেন না এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। নাম না করে কংগ্রেস এবং শিরোমণি আকালি দল (বিশেষ করে সুখবীর সিং বাদল)-কে নিশানা করে নিজের বিখ্যাত ‘কিকলি’ গানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বকে ব্যঙ্গ করেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বড় বড় রাজনৈতিক শক্তিকে ছুড়ে ফেলে নিজেদের হাতে ক্ষমতা তুলে নিয়েছিল। আম আদমি পার্টি সরকারের প্রতিটি টাকা কেবল সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের কাজেই খরচ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।