চিরবিদায়ের পর মুক্তি পাচ্ছে লিজেন্ডারি গায়িকার শেষ গান! কোন ছবির জন্য রেকর্ড করেছিলেন আশা ভোঁসল?

কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা আশা ভোঁসলের শেষ গানটি তাঁর আসন্ন জন্মবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেতে চলেছে। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎকে অজস্র স্মরণীয় গান উপহার দিয়ে অমর হয়ে আছেন এই শিল্পী। গত ২০২৬ সালের ১২ই এপ্রিল তিনি পরলোকগমন করেন। যদিও কিংবদন্তি এই গায়িকা আজ শারীরিকভাবে এই পৃথিবীতে নেই, তবুও তাঁর জাদুকরী কণ্ঠস্বর আজও সংগীতপ্রেমী কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে ও মনে গভীর অনুনাদ সৃষ্টি করে চলেছে। প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আশা ভোঁসলের রেকর্ড করা সর্বেশেষ গানটি ছিল আসন্ন ‘ওম কা হরি’ ছবির জন্য। গানটির শিরোনাম—‘অ্যায় মেরি জিন্দেগি, তু ছুপি হ্যায় কাঁহা’। আগামী ৮ই সেপ্টেম্বর বিশেষ এই গানটি জনসমক্ষে মুক্তি পাবে।
‘ওম কা হরি’ চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করা অভিনেতা অংশুমান ঝা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর চলচ্চিত্রে আশা ভোঁসলের মতো একজন ভারতীয় সংগীত জগতের মহাতারকার কণ্ঠ পাওয়াটা সমগ্র টিম এবং তাঁর নিজের কাছেও অত্যন্ত বিশেষ ও সৌভাগ্যের বিষয়। অভিনেতা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “‘ওম কা হরি’ ছবিটি আমার হৃদয়ের অত্যন্ত কাছাকাছি, কারণ এর মূল কাহিনীতে বাবাকে ‘আই লাভ ইউ’ বলার গুরুত্ব গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যে সৌভাগ্য আমার জীবনে কখনও হয়নি। ছবির সবচেয়ে আবেগঘন ও ক্রুশিয়াল মুহূর্তে আশা জির ঐশ্বরিক কণ্ঠে এই গানটি বেজে ওঠা একজন অভিনেতা ও শিল্পী হিসেবে আমার জীবনের অন্যতম সেরা এবং চিরস্মরণীয় প্রাপ্তি।”
অংশুমান ঝা আরও স্মৃতিচারণা করে বলেন, “কিংবদন্তি এই শিল্পীর সঙ্গে রেকর্ডিং স্টুডিওর ভেতরে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার জীবনের অন্যতম পরম আনন্দ ও মানসিক তৃপ্তির প্রাপ্তি। আজ বড্ড ইচ্ছে করছে, তিনি যদি আমাদের মাঝে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করতে পারতেন। তবে আমি বিশ্বাস করি, তিনি সবসময় আমাদের সঙ্গেই আছেন—তাঁর আত্মায়, তাঁর কালজয়ী সঙ্গীতে এবং সেই প্রতিটি মানুষের জীবনে, যাঁদের মন ও প্রাণ তিনি নিজের জাদুকরী কণ্ঠে স্পর্শ করে গেছেন।”
উল্লেখযোগ্য যে, অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ‘অ্যায় মেরি জিন্দেগি, তু ছুপি হ্যায় কাঁহা’ গানটি ২০২৩ সালে সফলভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই সময় আশা ভোঁসলের বয়স ৯০ বছরেরও বেশি ছিল। এই বয়সেও তিনি তাঁর সহজাত সুমধুর ও নিখুঁত কণ্ঠ দিয়ে গানটিতে অনন্য প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। হরিশ ব্যাস পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি মূলত বাবা ও ছেলের আবেগপূর্ণ সম্পর্কের জটিলতা ও গভীরতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি হৃদয়স্পর্শী ড্রামা-কমেডি ঘরানার ছবি।
আশা ভোঁসলের এই শেষ ঐতিহাসিক গানটি প্রকাশ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্রটির পরিচালক হরিশ ব্যাস অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বলেন, “তাঁর জন্মবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে গানটি প্রকাশ করতে পারাটা আশা জির অসামান্য সুমধুর কণ্ঠ, তাঁর বর্ণাঢ্য গৌরবময় কীর্তি এবং তাঁর অকৃত্রিম সংগীতে অনুপ্রাণিত হওয়া লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও অনুরাগীদের প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে এক বিনম্র ও আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।”