“মৃত্যুর ঘণ্টাখানেক আগেও …?”-কোন রহস্যের জেরে মাঝরাস্তায় খুন হলেন জনপ্রিয় গায়ক

প্রাত্যহিক রুটিন মেনে বুধবার জিম সেরে বাড়ি ফিরছিলেন হরিয়ানার জনপ্রিয় গায়ক তথা ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ান। কিন্তু কে জানত, সেই জিম থেকেই তাঁর জীবনের চাকা চিরকালের মতো থেমে যাবে! উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন হলেন ৩৫ বছর বয়সি এই তরুণ শিল্পী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গায়ককে লক্ষ্য করে একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ শামলির একটি জিম থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময়েই অঙ্কিতকে ঘিরে ধরে হামলাকারীরা। পরপর গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গায়ক। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কাজের সূত্রে অঙ্কিত মূলত হরিয়ানার রোহতক ও সোনীপতে থাকতেন। তাঁর ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার বড় মোড় এসেছিল ‘ভরি কোর্ট মে গোলি মারেঙ্গে মেরি জান’ গানটির মাধ্যমে। এই একটিমাত্র গান তাঁকে রাতারাতি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছিল। গায়কীর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা নেহাত কম ছিল না।

তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, আগামী দিনে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জোরালো পরিকল্পনা ছিল অঙ্কিতের। তবে এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তাঁর মৃত্যুর কারণ কি না, তা নিয়ে এখনও ধন্দ রয়েছে। মৃত্যুর ঠিক ঘণ্টাখানেক আগেও নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অঙ্কিত। সেই ভিডিওতে তাঁকে একটি গাড়িতে বসে ‘মার্ডার মার দে সড়ক কে উপর’ গানটি গাইতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো পুরোনো বিবাদের জেরে এই টার্গেটেড কিলিং, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তরুণ শিল্পীর আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার এবং অনুগামীদের মাঝে।