রংপুরে এক পরিবারের চার খুন, পুলিশের বক্তব্যে ধোঁয়াশা আর প্রশ্ন কেন?

রংপুরের দাসপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকায় জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড এবং তার পরবর্তী পুলিশি তদন্ত নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গত ২২শে অগাস্ট রাতে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের নানা অসঙ্গতি নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেটিজেনদের মনে দানা বেঁধেছে গভীর সংশয় ও অবিশ্বাস।
ঘটনার পরপরই মুগ্ন দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ দাবি করে যে তারাই চারজনকে খুন করেছে। কিন্তু এই দাবির পর থেকেই মামলার নেপথ্য কারণ, আসামিদের ভূমিকা, বিদ্যুৎ সংযোগের বিচ্ছিন্নতা, ধর্ষণের অভিযোগ এবং খোদ পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে আসামির পোশাকের মিল নিয়ে নানা বিস্ফোরক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে, নিহত শিক্ষকের মেয়ের চোয়াল ভাঙা নিয়ে পুলিশ ও চিকিৎসকদের বিবৃতির অমিল তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
অপরাধবিজ্ঞানী ও সাবেক পুলিশ প্রধানদের মতে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়াহুড়ো করে অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রদানই জনমনে অনাস্থা তৈরির মূল কারণ। অতীতে সাগর-রুনি, তনু বা মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলির তদন্তও বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সাবেক আইজিপি নুরুল হুদার মতে, ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক কাঠামোর কারণে এবং নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত চাপের মুখে পুলিশ আজও পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সক্ষম নয়।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ সতর্ক করে বলেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক অসংলগ্ন বক্তব্য এবং ক্রেডিট নেওয়ার মানসিকতা বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে। অন্যদিকে, মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তরিত হয়েছে এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানিয়েছেন যে অফিসিয়াল পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে না এলেও ডোপ টেস্টসহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তই এখন এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।