বর্ষার জলে ভাসছে রাস্তাঘাট! একটু ভুলেই হাতছাড়া হবে লাখ লাখ টাকা? গাড়ি বাঁচাতে আজই জানুন এই ৪টি সিক্রেট!

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাগাড়ে চলা বর্ষার জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকায় প্রবল জল জমে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এই বর্ষার মরসুমে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের সাধের চার চাকার গাড়িটি। এই পরিস্থিতিতে গাড়িটিকে কীভাবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখবেন এবং জলমগ্ন রাস্তায় সামান্য ভুলের কারণে কীভাবে হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলতে হতে পারে, তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, বন্যার জলে গাড়ি ডুবে গেলে বা ভেসে গেলে কীভাবে বিমার (Car Insurance) ক্ষতিপূরণ মিলবে, তার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
কোন বিমা পলিসিতে মিলবে কাঙ্ক্ষিত ক্লেম?
আপনার গাড়ি যদি বন্যার জলে ডুবে যায় বা ভেসে যায়, তবে বিমা কোম্পানির থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি ঠিক কোন ধরনের বিমা পলিসি বেছে নিয়েছেন তার ওপর।
থার্ড-পার্টি ইনসিওরেন্স (Third-Party Insurance): আপনার গাড়িতে যদি শুধুমাত্র আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক থার্ড-পার্টি ইনসিওরেন্স করা থাকে, তবে বন্যা, ঝড় বা জলে ভেসে যাওয়ার কারণে হওয়া কোনো ক্ষতির জন্য আপনি এক টাকাও ক্ষতিপূরণ পাবেন না। এই পলিসি কেবল দুর্ঘটনাগ্রস্ত তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা তাঁর সম্পত্তির ক্ষতির জন্যই প্রযোজ্য।
কম্প্রিহেনসিভ ইনসিওরেন্স পলিসি (Comprehensive Insurance Policy): আপনার কাছে যদি কম্প্রিহেনসিভ বা ব্যাপক কভারেজের পলিসি থাকে, তবেই আপনি বন্যা, জলমগ্নতা, ঝড়, ভূমিকম্প কিংবা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির জন্য ক্লেম করতে পারবেন। এই পলিসি বন্যায় ডুবে যাওয়া বা ভেসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সম্পূর্ণ মেরামত বা রিপ্লেসমেন্টের খরচ কভার করে।
অ্যাড-অন কভার কেন অত্যন্ত জরুরি?
সাধারণ কম্প্রিহেনসিভ পলিসি থাকলেও জলে ডুবে থাকা ইঞ্জিনের বা বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি সবসময় সরাসরি কভার হয় না। কোনো ঝামেলা ছাড়া সহজে ক্লেম পাশ করানোর জন্য কিছু বিশেষ অ্যাড-অন কভার থাকা বাধ্যতামূলক:
ইঞ্জিন প্রোটেকশন কভার (Engine Protection Cover): বৃষ্টির জলে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে বা ভেতরে জল ঢুকলে ইঞ্জিন সিজ হওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে। বেসিক ইনসিওরেন্স এর খরচ দেয় না, যা এই অ্যাড-অন কভার সম্পূর্ণ বহন করে।
জিরো ডেপ্রিসিয়েশন কভার (Zero Depreciation Cover): বন্যায় গাড়ির প্লাস্টিক, ফাইবার বা রাবারের মতো পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার পুরো মূল্য পাওয়া যায়।
কনজিউমেবলস কভার ও রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স: মেরামতের সময় প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন অয়েল, নাট-বল্টু এবং আটকে পড়া গাড়িকে নিরাপদে সার্ভিস সেন্টারে টো (tow) করে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা এতে মেলে।
গাড়ি জলে ডুবলে বা ভেসে গেলে কী করবেন?
গাড়ি জলের তলায় আটকে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে ভুল করেও সেলফ বা ইঞ্জিন স্টার্ট করার চেষ্টা করবেন না। বন্ধ গাড়ি স্টার্ট করলে জল ইঞ্জিনের ভেতরে প্রবেশ করে, যাকে বিমা কোম্পানি ‘চালকের অবহেলা’ হিসেবে গণ্য করে ক্লেম বাতিল করতে পারে। গাড়ি ভেসে গেলে সেটিকে ‘টোটাল লস’ ধরে এফআইআর ও পুলিশের আনট্রেসড রিপোর্ট সাপেক্ষে আইডিভি (IDV) মূল্য ফেরত পাওয়া যায়। তাই জলমগ্ন অবস্থায় ছবি তুলে অবিলম্বে বিমা সংস্থাকে জানান এবং গাড়ি নিজে স্টার্ট না করে টো-ট্রাকের মাধ্যমে সার্ভিস সেন্টারে পাঠান।