বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ভুগে কি খতম হচ্ছে পায়ের ত্বক? জানুন ফাঙ্গাল ইনফেকশন এড়ানোর মোক্ষম উপায়!

বর্ষার মরশুমে অবিরাম বৃষ্টি, রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু জল আর প্যাচপ্যাচে কাদা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। আর এই দূষিত পরিবেশের সবচেয়ে বড় আঘাত গিয়ে পড়ে আমাদের পায়ের ওপর। একটুখানি অসাবধান হলেই পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি কিংবা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা শুরু হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যা অত্যন্ত পরিচিত ‘অ্যাথলিটস ফুট’ নামে। মূলত দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ ভুলের কারণেই এই মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

বর্ষার দিনে পায়ের সুরক্ষায় কোন কোন নিয়ম মেনে চলা জরুরি?

বাইরে থেকে ফিরে পা পরিষ্কার না করা: রাস্তায় জমে থাকা নোংরা জলে হাজারো রকমের রোগজীবাণু লুকিয়ে থাকে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে যদি ভালো করে পা না ধোয়া হয়, তবে সেই জীবাণুগুলো ত্বকের সংস্পর্শে থেকে যায়। এর ফলে শুধু পায়েই ইনফেকশন হয় না, তা শরীরের অন্যান্য অংশেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাড়িতে ঢুকেই পরিষ্কার জল ও অ্যান্টিসেপ্টিক সাবান দিয়ে পা ভালো করে ধুয়ে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

ভেজা জুতো পরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা: বর্ষার দিনে জুতো ভিজে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই ভেজা জুতো ও মোজা পায়ে পরে বসে থাকাই সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্যাঁতসেঁতে এবং অন্ধকার জায়গায় ছত্রাক সবথেকে দ্রুত বাড়ে। তাই বর্ষাকালে এমন জুতো বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে যা খোলামেলা এবং খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। জুতো ভিজে গেলে দেরি না করে তা সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলা উচিত।

পায়ের খাঁজ ও নখের সঠিক যত্ন না নেওয়া: অনেকেই কেবল জল দিয়ে পা ধুয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ মনে করেন। অথচ পায়ের আঙুলের ফাঁকে জল জমে থাকা কিংবা বড় নখের কোণায় ময়লা জমে মারাত্মক ঘা সৃষ্টি হতে পারে। নিয়মিত নখ ছোট করে ছাঁটা এবং আঙুলের ফাঁকগুলো সবসময় শুকনো রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি পা অতিরিক্ত খসখসে হয়ে যায়, তবে ভালো মানের হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

ছোট ফুসকুড়ি ও চুলকানিকে উপেক্ষা করা: পায়ে সামান্য লাল দানা বা চুলকানি দেখলেই অনেকেই তা অবহেলা করেন। কিন্তু বর্ষার এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সামান্য অবহেলাই পরবর্তীতে জটিল ঘা বা গভীর সংক্রমণে রূপ নিতে পারে। তাই প্রাথমিক অবস্থাতেই সতর্ক হওয়া অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।