রাখির টানা ছুটিতে ঘরের কোণে বন্দি কেন? দিল্লির আশেপাশের এই ৫ স্বর্গীয় জায়গায় ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরে আসুন!

এই বছর রক্ষা বন্ধন উৎসবটি পড়েছে শুক্রবার, যার ফলে এটি একটি চমৎকার ‘লং উইকেন্ড’ বা টানা ছুটির সঙ্গে মিলে গিয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও ক্লান্তিকর রুটিন থেকে বিরতি নেওয়ার জন্য এবং ভাই-বোনদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর জন্য এই লম্বা ছুটি এক সুবর্ণ সুযোগ। আপনি যদি দিল্লি বা তার আশেপাশের অঞ্চলে থাকেন, তবে এই উইকেন্ডে পরিবার ও ভাই-বোনদের নিয়ে ঘুরে আসার মতো বেশ কিছু দুর্দান্ত ও মনোরম জায়গার সন্ধান মিলছে।

তালিকার প্রথমেই রয়েছে রাজস্থানের জয়পুর। দিল্লি থেকে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ‘পিঙ্ক সিটি’ বা গোলাপি শহরে আপনি আমের ফোর্ট, হাওয়া মহল, সিটি প্যালেস এবং নাহারগড় ফোর্টের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। সূর্যাস্তের সময় এখানকার স্থাপত্যের রূপ এক অন্য মাত্রা নেয়। পাশাপাশি, জয়পুরের জমজমাট বাজার থেকে ভাই-বোনের জন্য আকর্ষণীয় উপহারও কিনতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, রাখি বন্ধন উপলক্ষে যদি কোনো আধ্যাত্মিক গন্তব্যে যেতে চান, তবে মথুরা-বৃন্দাবন ভ্রমণের পরিকল্পনাটি হবে সবচেয়ে চমৎকার। সামনেই জন্মাষ্টমী, তাই এই পবিত্র শহরগুলো ভ্রমণের জন্য এটিই পরম উপযুক্ত সময়। এখানে বাঁকে বিহারী মন্দির, প্রেম মন্দির এবং ইসকন মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি এখানকার বিখ্যাত পেড়া, রাবড়ি ও নানা ধরনের সুস্বাদু স্ট্রিট ফুডের স্বাদ নিতে পারেন।

তৃতীয় গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতে পারেন রাজস্থানের নিম্রানা ফোর্ট প্যালেস। দিল্লি থেকে মাত্র ১২০ কিলোমিটার দূরে আরাবল্লী পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি থেকে মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানকার রাজকীয় আভিজাত্য, সবুজ পরিবেশ এবং সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আপনার এই উইকেন্ডের ছুটিটিকে সত্যিই রাজকীয় ও উপভোগ্য করে তুলবে।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন। ভাইবোনেরা যদি কোলাহল থেকে দূরে সবুজ প্রকৃতি ও শীতল পাহাড়ের বাতাস উপভোগ করতে চান, তবে দিল্লি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরের এই পাহাড়ি জনপদ দারুণ পছন্দ হবে। অন্যান্য পাহাড়ি এলাকার মতো এখানে অতিরিক্ত ভিড় থাকে না, ফলে নিশ্চিন্তে ও ধীরলয়ে পুরো এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়। হিমালয়ের শৃঙ্গ দর্শন, লেকে নৌকাবিহার এবং পাইন-দেওদার বনের মধ্য দিয়ে হাঁটা এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেয়।

সবশেষে, আপনার ভাইবোনেরা যদি অ্যাডভেঞ্চার বা রোমাঞ্চপ্রিয় হন, তবে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ পছন্দ। গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরে রোমাঞ্চকর রিভার র‍্যাফটিং এবং নদীর ধারের ক্যাম্পিংয়ের দুর্দান্ত সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যায় ত্রিবেণী ঘাটের বিশ্বখ্যাত গঙ্গা আরতি দেখার অভিজ্ঞতা মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক আনন্দে ভরিয়ে তুলবে।