আইআইটি ক্যাম্পাসে দাবানল! ছাত্র ঋষিকেশের রহস্যমৃত্যুর পরেই ডিনের পদত্যাগ ও ১ কোটির ক্ষতিপূরণের দাবিতে উত্তাল দিল্লি

দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি দিল্লিতে (IIT Delhi) ছাত্রমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের লেকচার হল কমপ্লেক্সের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে ৩১ বছর বয়সি ছাত্র ঋষিকেশ কুমারের মৃত্যুর পর থেকেই ক্যাম্পাসে লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে। ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী আধিকারিকদের জবাবদিহিতা এবং ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হয়েছেন পড়ুয়ারা।
ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট আইআইটি দিল্লির একটি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ঋষিকেশ কুমারের। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত চালালেও কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার করতে পারেনি। বর্তমানে ওই ছাত্রের মোবাইল ফোন, কাউন্সেলিংয়ের রেকর্ড এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদিকে, ঋষিকেশের পরিবারের পক্ষ থেকে আইআইটি প্রশাসনের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ছাত্রটির মানসিক অবস্থার কথা প্রশাসন আগে থেকেই জানলেও তাকে পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হয়নি। এমনকি চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে ফেরার পর তাকে তার হোস্টেলের ঘরটুকুও ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
উত্তাল ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ: গত ২৪ আগস্ট থেকে আইআইটি দিল্লির পড়ুয়ারা ক্লাস বয়কট করে আন্দোলন শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে একের পর এক মোট আটজন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মানসিক চাপে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক সহায়তা ব্যবস্থা না থাকা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এর জন্য দায়ী বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট রাতে ক্যাম্পাসে মোমবাতি মিছিল করে নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে ডিনের পদত্যাগ এবং ছাত্রকল্যাণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও তদন্ত কমিটি: পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ২৫ আগস্ট আইআইটি দিল্লি প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি পাঁচ সদস্যের বহিরাগত তদন্ত কমিটি গঠন এবং একজন বহিরাগত ন্যায়পাল নিয়োগের ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একাংশ এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যার জেরে ওই পাঁচ সদস্যের প্যানেলের প্রধান, প্রাক্তন মহাপরিচালক অশোক কুমার তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নেন। খুব শীঘ্রই নতুন কমিটির প্রধানের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশও আত্মহত্যার প্ররোচনা সংক্রান্ত একটি মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।