উৎসবের আগেই মুখে তেতো স্বাদ! হু-হু করে বেড়ে ৬৫ পার করল চিনির দাম, মাথায় হাত সাধারণ মানুষের

উৎসবের মরসুম দোরগোড়ায় কড়া নাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এল চিনির বাজার। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, উৎসবের মুখে বাজারে চাহিদা বাড়ার কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশে হু-হু করে বেড়েছে চিনির খুচরা দাম। গত ২৬ আগস্ট দেশের গড় খুচরা চিনির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৬৫.০৫ টাকা, যা তার আগের দিন ছিল প্রতি কেজি ৬৩.৯৭ টাকা। অর্থাৎ, এক লাফে দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎসবের আনন্দ মাটি হওয়ার উপক্রম হয়েছে মধ্যবিত্তের।

দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ ও বাজারের বাস্তব চিত্র খুচরা বাজারে চিনির আগুন দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ফটকাবাজি ও মজুতদারি রুখতে কড়া নজরদারির পাশাপাশি চিনির ডিলার এবং পানীয় প্রস্তুতকারক বড় বড় সংস্থাগুলির ওপর মজুতের নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি দেশের বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে ১ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মিল-গেটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে ১৮ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় নেমে এলেও, তার সুফল এখনও সাধারণ ক্রেতারা খুচরা বাজারে হাতে পাননি।

ভোক্তা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানের এই গড় খুচরা মূল্য এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। দেশের বিভিন্ন বাজারে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য কোথাও কোথাও প্রতি কেজি ৭৬ টাকা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। পাইকারি বাজারেও যার প্রভাব স্পষ্ট; বুধবার পাইকারি চিনির গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৬০.৩৬ টাকা।

উৎপাদন ঘাটতি ও ভবিষ্যতের পূর্বাভাস বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো চলতি মৌসুমে উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পোকার আক্রমণের জেরে আখ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ) তাদের প্রাথমিক অনুমান সংশোধন করে জানিয়েছে যে, ইথানল উৎপাদনে নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি বাদ দিলে ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে মোট চিনি উৎপাদন নেমে আসবে প্রায় ২৭.৯ মিলিয়ন টনে। এর পাশাপাশি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও উৎসবের বাজারে পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো বাজার।