মাছ ভোজ বিতর্ক থেকে নিষাদ নারীদের নির্যাতন! যোগী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ইউপি কংগ্রেস প্রধান

মাছ ভোজ ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্ক এবং নিষাদ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়। লখনউতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সদ্য বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া নিষাদ নেতা রাম নিহাল নিষাদকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রাম নিহাল নিষাদ অভিযোগ করেন, চলতি মাসের শুরুতে একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের এক মুখপাত্রের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে নিষাদ সম্প্রদায়ের মা ও বোনদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে পুরো নিষাদ সমাজের প্রতি অপমান বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এর নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে এবং এই ঘটনায় সমগ্র সম্প্রদায় গভীরভাবে মর্মাহত। হনুমানগড়ির পুরোহিত রাজু দাসের বিরুদ্ধেও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তোলে কংগ্রেস।

এই প্রসঙ্গে যোগী সরকারকে তীব্র নিশানা করে ইউপি কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন তাঁর মাছ খাওয়া নিয়ে কথা বলছেন, তখন রাজ্যের তরুণীদের ওপর হওয়া অপরাধ ও জঘন্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ কেন? মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে অজয় রায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন যে, নিষাদ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছে, তারা আদতে মুখ্যমন্ত্রীর শিবিরেরই লোক। যোগী আদিত্যনাথ মিথ্যা কথা বলেছেন দাবি করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আর মঠে বসার যোগ্য নন। আগামী দিনে নিষাদ সম্প্রদায়ের অসম্মান এবং টিভি শো-তে কুরুচিকর ভাষা ব্যবহারের প্রতিবাদে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে আম আদমি পার্টির জোটের সম্ভাবনা ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অজয় রায় কটাক্ষ করে বলেন, ইউপি অত্যন্ত সতর্ক রাজ্য এবং যারা শুধুমাত্র জনগণকে ধোঁকা দিতে আসে, তারা সফল হয় না। ২০১৪ সালে মোদীকে জেতাতে বারাণসীতে আসলেও এরপর কেজরিওয়ালকে আর বারাণসীর রাস্তায় দেখা যায়নি বলে তোপ দাগেন তিনি। এছাড়া অখিলেশ যাদবের সঙ্গে সঞ্জয় সিংয়ের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, শুধু বৈঠক করলেই হয় না, মানুষের সুখে-দুঃখে মাঠে নেমে লড়াই করতে হয়। বর্তমানে গোটা রাজ্য নিপীড়নের শিকার হলেও একমাত্র রাহুল গান্ধীর সৈনিকেরাই মানুষের পাশে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি।