‘এবার বিধানসভা দেখছি!’ ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিসে খোদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম হুঁশিয়ারি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে বড় ধাক্কা খেলেন দলবদলু আইনপ্রণেতারা। ২০ জন এনসিপিআই (NCPI) সাংসদের বক্তব্য জানতে চেয়ে সরাসরি নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে, বিদ্রোহী ওই ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব তলব করেছে লোকসভার সচিবালয়। সংসদের এই লড়ায়ের পর এবার সরাসরি বিধানসভাতেও একই পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের টিকিটে জয়ী ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনসিপিআই-এ মিশে যান। দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী এই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ করার দাবি জানিয়ে প্রথমে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও, সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে দেরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। মঙ্গলবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকে নোটিস জারি করে তাঁদের মতামত তলব করেছে।
সংসদে দল ভাঙার এই ঘটনার পর এবার বিধানসভাতেও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এনসিপিআই-এর পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর ভূমিকাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নোটিস জারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই আরও চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ”এতটাই নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করা হয়েছে যে সুপ্রিম কোর্টও পুরো বিষয়টি ধরে ফেলেছে। কারণ এর আগে শিণ্ডের মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট শুনেছে। গোটা সংসদীয় গণতন্ত্রকে নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। নোটিস যখন ইস্যু হয়েছে, তখন জবাব তো দিতেই হবে।” এর পরেই বিধানসভা সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, ”এই সংসদ দিয়ে শুরু করলাম, এবার বিধানসভা দেখছি। ওদের চামচাগিরি করা চিরতরে ছাড়িয়ে দেব।”