অবৈধ বালি তোলার তোড়জোড় বানচাল! এসিবি-র জালে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশকর্মী সহ ৪ পাণ্ডা!

অবৈধ বালি পাচার ও তোলাবাজির অভিযোগে নজিরবিহীন পদক্ষেপে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা বা এসিবি (ACB)-এর জালে ধরা পড়ল ঝাড়গ্রাম থানার এক কনস্টেবল ও তিন দালাল। বর্ষার মরসুমে যখন নদী থেকে বালি উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, ঠিক তখনই এক শ্রেণির অসাধু চক্র ও পুলিশি সুরক্ষার আঁতাতে রমরমিয়ে চলছিল অবৈধ বালি উত্তোলনের সিন্ডিকেট। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে এসিবি-র চালানো বিশেষ অভিযানে ৫ লক্ষ ৭০ হাজার নগদ টাকা সহ হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী রতন প্রামাণিক এবং তাঁর তিন সহযোগী দালালকে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা ঝাড়গ্রাম জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, বর্ষার মৌসুমে নদী থেকে বালি তোলা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বালি মাফিয়ারা নতুন করে চক্র ফেঁদেছিল। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বালি পরিবহণের জন্য প্রতিটি ট্রাক্টরের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার ফন্দি আঁটে বালি মাফিয়াদের দালালরা। এই অবাধ তোলাবাজি ও অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে বালি মালিকদেরই এক পক্ষ সরাসরি রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এসিবি আধিকারিকরা ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিযানে নামে। প্রথমে বাঁধগোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপুর গ্রাম থেকে রবি বারিক ও দীপঙ্কর বারিক নামে দুই দালালকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের জেরা করে শান্তনু বারিক নামে আরও এক দালালের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় বালি বোঝাই ট্রাক্টর থেকে তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এসিবি জানতে পারে যে, এই অবৈধ উপায়ে সংগৃহীত টাকা ঝাড়গ্রাম থানার এক নির্দিষ্ট কনস্টেবলের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিনা বাধায় নদী থেকে বালি পাচার অব্যাহত রাখা যায়। এই সূত্র ধরেই এসিবি-র চৌকস আধিকারিকরা বালি ব্যবসায়ী সেজে একটি টাকার ব্যাগ নিয়ে সোজা ঝাড়গ্রাম থানায় প্রবেশ করেন এবং অভিযুক্ত কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের হাতে সেই টাকা তুলে দেন। টাকা হাতবদল হওয়ার ঠিক মুহূর্তেই এসিবি টিম রতন প্রামাণিককে হাতেনাতে পাকড়াও করে।
এরপর ঝাড়গ্রাম থানার চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কর্নারে দীর্ঘক্ষণ ধরে ম্যারাথন জেরা চলে। জেরা পর্বে ঝাড়গ্রাম থানার আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতিতে এসিবি আধিকারিকরা অভিযুক্ত কনস্টেবল ও তিন দালালকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ধৃত কনস্টেবল রতন প্রামাণিক ২০১৮ সাল থেকেই ঝাড়গ্রাম থানায় কর্মরত আইসি-দের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ঝাড়গ্রাম জেলায় এসিবি-র এমন সাঁড়াশি অভিযান এই প্রথম নয়, বরং এর আগেও দুর্নীতি দমন শাখার হানার ইতিহাস রয়েছে। তবে বর্তমান এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এসিবি-র এই লাগাতার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।