চোখের পলকে জলের নিচে তলিয়ে গেল বাজার ও সরকারি অফিস! নেপালের রসুয়ায় জলপ্রলয়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা!

নেপালের রসুয়া জেলায় অবস্থিত ভোট কোশী (Bhote Koshi) নদীতে এক ভয়াবহ ও হঠাৎ আসা পাহাড়ি ঢল বা ‘ফ্লাশ ফ্লাড’ চরম তাণ্ডব চালিয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বত সীমানা পেরিয়ে এই প্রবল ও অভূতপূর্ব জলের স্রোত নেপাল সীমান্তে প্রবেশ করে। রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বান মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসলীলার সৃষ্টি করেছে। কোনো প্রকার পূর্বসংকেত ছাড়া আচমকা বিশাল মাত্রায় নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী লোকালয়, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ জলের নিচে তলিয়ে গেছে।
এই ভয়াবহ বানের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সামান্য সুযোগটুকুও পায়নি। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ও ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রচুর সম্পত্তি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানির প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমগ্র এলাকা বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। নদীর জলের স্তর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রসুয়া জেলার স্যাপরুবেসি এবং তিমুরে অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত তিমুরে কাস্টমস অফিস সংলগ্ন এলাকা পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। সেখানে থাকা অসংখ্য যানবাহন, মালামাল এবং ব্যবসায়িক সামগ্রী জলের তোড়ে ভেসে গেছে। বহু ঘরবাড়ি, বাজার, সংযোগ সড়ক এবং সেতু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতেও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, নদীর আকস্মিক প্রবাহে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু মানুষ ভেসে গেছেন। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন সদস্যসহ একাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এই ভয়াবহ বন্যা হলো, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান—তিব্বত অংশের কোনো হিমবাহ সংলগ্ন রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়া বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (GLOF)-এর কারণেই নদীর জল আচমকা এমন ভয়াল রূপ ধারণ করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বল এবং সাধারণ পুলিশ সদস্যদের যৌথ দল দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছে। নেপাল সেনাবাহিনী ও বেসরকারি সংস্থার একাধিক হেলিকপ্টার দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী উদ্ধার অভিযান আরো জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলীয় জেলাগুলো যেমন নুওয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা এবং চিতওয়ানে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পুরো উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করছে এবং বিপন্ন মানুষদের দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।