সকালের এই ৫ ভুলেই হু হু করে বাড়ে সুগার! ডায়াবেটিস রোগীরা আজই বদলান এই অভ্যাসগুলি!

সকালের শুরুটা ঠিক কেমন হচ্ছে, তার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে সারাদিনের আমাদের শরীর ও মনের ছন্দ। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের জন্য সকালের কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় সঠিকভাবে ব্রেকফাস্ট করার আগেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। আর এই সমস্যার নেপথ্যে থাকতে পারে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু খুব সাধারণ ভুল। তাই সুস্থ থাকতে সকালে এই ৫টি ক্ষতিকর অভ্যাস অবিলম্বে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই দীর্ঘদিনের। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে কিছু মানুষের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সাময়িকভাবে অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই কফি বা চায়ের বদলে এক গ্লাস জল খাওয়া শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজনে হালকা কিছু খাবার খাওয়ার পরই চা-কফি পান করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, ওজন কমানোর তাগিদে কিংবা সময়ের অভাবে অনেকে সকালের ব্রেকফাস্ট বা প্রাতরাশ সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীর তার প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেওয়ার জন্য সঞ্চিত গ্লুকোজ রক্তে ছাড়তে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খিদে পাওয়ার কারণে দুপুরের দিকে একসঙ্গে অনেক বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই সকালে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ একটি সুষম খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তৃতীয়ত, সকালে নিয়ম করে ব্যায়াম করা নিঃসন্দেহে একটি দারুণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে খালি পেটে খুব বেশি জোরে কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে শরীরচর্চা করলে শরীরে অতিরিক্ত স্ট্রেস তৈরি হতে পারে। সেই সময় অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো ক্ষতিকর হরমোনের প্রভাবে লিভার থেকে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ চলে আসতে পারে। ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে সুগার লেভেল অনেক বেড়ে যায়। তাই নিজের শারীরিক পরিস্থিতি বিচার করেই ব্যায়ামের মাত্রা নির্ধারণ করা দরকার।
চতুর্থত, সকালবেলা চোখ খুলেই ফোনে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মেল, খবর কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করতে শুরু করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এই বাজে অভ্যাসও মারাত্মকভাবে মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। মনে রাখবেন, মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বাড়লে শরীরে কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়ে, যা সরাসরি রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দিনের শুরুতে কিছুটা সময় ফোন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থেকে একদম শান্তভাবে দিন শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পঞ্চমত, সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাস্থ্যকর ভেবে অনেকেই মিষ্টি পানীয় বা ফলের রস খেয়ে থাকেন। কিন্তু ফলের রসে গোটা ফলের তুলনায় ফাইবার বা ফাইবারের পরিমাণ অনেক কম থাকে। এর ফলে জুসে থাকা শর্করা শরীরে তুলনামূলক অনেক দ্রুত পৌঁছয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও ঝড়ের গতিতে বৃদ্ধি পায়। তাই জুসের বদলে সবসময় গোটা ফল খাওয়া শরীরের পক্ষে বেশি উপকারী। একইভাবে সকালে যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যের পক্ষে মঙ্গলজনক।
সকালের এই ছোট ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলিতে সামান্য পরিবর্তন এনে রক্তে শর্করার ওঠানামা খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে যাঁদের ইতিমধ্যে ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁরা নিজেদের নিয়মিত ওষুধ, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা বা ব্যায়ামের রুটিনে যেকোনো বড় পরিবর্তন করার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।