অসুস্থ স্বামীকে ডিভোর্স চাওয়ার শাস্তি! স্ত্রীকে চপেটাঘাত করে যুগান্তকারী রায় দিল আদালতের বেঞ্চ!

হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সুন্দরনগর পারিবারিক আদালত হিন্দু বিবাহ এবং সামাজিক বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী রায় প্রদান করেছে। সুন্দরনগর পারিবারিক আদালতের অতিরিক্ত প্রধান বিচারপতি এক গুরুতর মামলার শুনানি শেষে এক পা হারানো অসুস্থ স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন শুধু খারিজই করেননি, বরং স্ত্রীর এই অমানবিক মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কঠিন সময়ে বা শারীরিক অক্ষমতার মুহূর্তগুলিতে জীবনসঙ্গীকে সমর্থন করার পরিবর্তে তাঁকে বোঝা মনে করে পরিত্যাগ করা কোনোভাবেই হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী নিষ্ঠুরতা বা বিচ্ছেদের যুক্তিযুক্ত কারণ হতে পারে না।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচিত মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সুন্দরনগরের বিবিএমবি কোয়ার্টার্সের বাসিন্দা মীনা কুমারী এবং তাঁর স্বামী, পারগির বাসিন্দা ললিত কুমার। আবেদনকারী স্ত্রী হিন্দু বিবাহ আইনের ১৩(১)(আইএ) এবং ১৩(১)(আইবি) ধারার অধীনে আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন দাখিল করেছিলেন। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল যে, তাঁর স্বামী বিগত ২০১৪ সাল থেকে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন এবং তাঁকে পরিত্যাগ করে আলাদাভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এবং জেরা পর্বে স্ত্রীর সমস্ত বয়ান ও দাবি পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। জেরার মুখোমুখি হয়ে স্ত্রী নিজেই স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, তিনি ও তাঁর স্বামী ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সুন্দরনগরের জওহর পার্কের একটি ভাড়া বাড়িতে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই একসঙ্গে বসবাস করতেন। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয়ে যায় যে, ২০১৪ সাল থেকে স্বামী কর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার তাঁর সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ছিল।
পাশাপাশি, মামলার প্রতিবাদী স্বামী ললিত কুমার গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাঁর একটি পা হারিয়ে ফেলেছেন এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে শারীরিক অক্ষমতার শিকার। স্ত্রী আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় এও অকপটে স্বীকার করেন যে, স্বামীর অপারেশন করে পা কেটে বাদ দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে তিনি একবারও স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে বা তাঁর খোঁজ নিতে যাননি। এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে বিচারক অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান যে, আবেদনকারী স্ত্রী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আনা নিষ্ঠুরতা ও পরিত্যাগের অভিযোগগুলি প্রমাণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। আদালত পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, যখন ওই শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামীর নিজের স্ত্রীর সাহচর্য ও ভালোবাসার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন স্ত্রী নিজের নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছেন এবং মিথ্যা অজুহাত সাজিয়ে আদালত থেকে আইনি বিচ্ছেদ হাসিল করার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত আদালত আবেদনটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে তা খারিজ করে দেয় এবং সমাজের কাছে এক অনন্য ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।