প্রথম শ্রেণির এসি কোচে এ কী কাণ্ড! চলন্ত ট্রেনে প্রবীণ যাত্রীর নাকে ইঁদুরের কামড়, রেলের গাফিলতিতে তুঙ্গে ক্ষোভ

রেলের ফার্স্ট ক্লাস এসি কামরা মানেই সাধারণত আরামদায়ক, বিলাসবহুল ও নিরাপদ যাত্রার এক অবিসংবাদিত ভরসা। কিন্তু সেই আস্থার জায়গাতেই এবার ঘটে গেল এক চরম অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগজনক ঘটনা। বিপুল অর্থ খরচ করে ট্রেনের প্রথম শ্রেণির এসি কামরায় সংরক্ষিত টিকিট কেটেও এক প্রবীণ যাত্রীকে পড়তে হল চরম আতঙ্কের মুখে। চণ্ডীগড় থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর অভিমুখে যাত্রা করার সময় ৭৮ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর ওপরে চলন্ত ট্রেনেই চড়াও হয় একটি ইঁদুর এবং তাঁর নাকে সজোরে কামড়ে দেয়। এই আকস্মিক ঘটনায় রেলের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে তীব্র প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি গত ২২ আগস্ট ১৯৩০৮ উনা হিমাচল এক্সপ্রেসে সংঘটিত হয়। ওই প্রবীণ যাত্রী বিজয় করণ সপরিবারে ফার্স্ট এসি কোচে ভ্রমণ করছিলেন। ঠিক সেই সময় আচমকাই একটি ইঁদুর তাঁর নাকে কামড় বসায়। এই অপ্রত্যাশিত আঘাতে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করেন ওই বৃদ্ধ যাত্রী এবং তাঁর নাক থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি রেল মন্ত্রক ও অনবোর্ড স্টাফদের অবগত করেন। রেলের তরফ থেকেও দ্রুত তৎপরতা দেখানো হয় এবং ট্রেন চলন্ত অবস্থাতেই একটি জরুরি মেডিক্যাল টিম সেখানে পৌঁছে যায়। ট্রেনেই প্রবীণ যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়। ট্রেনটি শেষমেশ ইন্দোর স্টেশনে পৌঁছানোর পর পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে অ্যান্টি-র‌্যাবিস বা জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কোচের ভেতরে নোংরা পরিবেশ, অবহেলা এবং ইঁদুরের অবাধ উপদ্রব নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছিল। রেলকর্মীরা দায়সারাভাবে সামান্য সাফাইয়ের কাজ করলেও ইঁদুর তাড়ানোর স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। যার খেসারত হিসেবে এক প্রবীণ যাত্রীকে এমন রক্তাক্ত ও বিপজ্জনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যম ও যাত্রী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নড়েচড়ে বসে রেল কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম রেলের রতলম ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক মুকেশ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইন্দোর থেকে ট্রেন ছাড়ার আগে নিয়মমাফিক পেস্ট কন্ট্রোল ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ যথাযথ নিয়মেই করা হয়েছিল। ইন্দোর থেকে হিমাচল যাওয়ার পথে এর আগে কোনো যাত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। রেলের প্রাথমিক অনুমান, যাত্রাপথে কোনো একটি স্টেশনে ট্রেনের দরজা বা কেবিনের মুখ খোলা থাকার সুযোগ নিয়েই হয়তো ইঁদুরটি কামরায় ঢুকে পড়েছিল। পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেলের তরফে ওই যাত্রীকে দ্রুত চিকিৎসাগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।