স্পিকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ অভিষেক! সুপ্রিম কোর্টে বড় মোড় তৃণমূল বনাম এনসিপিআই মামলায়!

অনিশ্চিত এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তার মাঝেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে দায়ের করা মামলার শুনানি আজ। ঠিক কী হতে চলেছে এই সাংসদদের রাজনৈতিক কেরিয়ারে, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।

চলতি মাসের সংসদীয় বাদল অধিবেশনেই এই বিদ্রোহী এনসিপিআই সাংসদদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় কেটে গেলেও সেই সংক্রান্ত কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দলত্যাগ বিরোধী আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আর্জি জানিয়েছিল তৃণমূল। তবে এতৎসত্ত্বেও সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে লোকসভার স্পিকার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে অভিযোগ।

লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন ফাইল করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল যুক্তি হলো, সংশ্লিষ্ট সাংসদরা নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের নির্ধারিত প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। এমতাবস্থায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে অপর একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। স্বাভাবিক নিয়মেই এই দলত্যাগী বিধায়ক বা সাংসদদের বিরুদ্ধে কঠোর দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

অভিযোগের সুরে আরও বলা হয়েছে যে বাদল অধিবেশন ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে এবং সংসদে ওই এনসিপিআই সাংসদদের জন্য নতুন ও পরিবর্তিত আসনও বরাদ্দ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অভিষেকের করা নির্দিষ্ট আবেদন অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী আইন ভঙ্গের অভিযোগে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি স্পিকার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় পার্টি করা হয়েছে সেই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদকেও। এক্ষেত্রে স্পিকারকে দ্রুত আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন অভিষেক। আজ সেই মামলার বহুচর্চিত শুনানি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।