ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থেকে বেতন বৃদ্ধি—অষ্টম বেতন কমিশনের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ কী? জানুন বিশদে!

দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অষ্টম বেতন কমিশন এবার আরও এক ধাপ এগোল। বেতনের পাশাপাশি ভাতা ও পেনশন সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠিত এই কমিশন ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে। দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, লাদাখ এবং উত্তরপ্রদেশের পর এবার কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ বৈঠকের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ৭ ও ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরু সফর করবে অষ্টম বেতন কমিশন। এই সফরে বিভিন্ন সরকারি কর্মী সংগঠন, ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি সরাসরি কমিশনের সামনে নিজেদের দাবি ও অভাব-অভিযোগ তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে অংশ নিতে ইচ্ছুক সমস্ত সংস্থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া মেমোরেন্ডাম জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত ‘ইউনিক মেমো আইডি’ (Unique Memo ID)-ও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট স্থান এবং সম্পূর্ণ সময়সূচি সম্পর্কে পরবর্তীতে সরকারিভাবে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি কর্মীদের কাজের প্রকৃতি এবং সমস্যা সম্পূর্ণ আলাদা। তাই আঞ্চলিক স্তরে এই ধরনের পরামর্শ বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা তৈরিতে বড় ভূমিকা নেবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীদের প্রধান আকর্ষণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং ন্যূনতম বেসিক পে বৃদ্ধি নিয়ে। নতুন বেতন কাঠামোয় বেসিক পে কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। তবে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বেঙ্গালুরুতে বৈঠক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সঙ্গে সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হয়ে যাবে। সমস্ত পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে কমিশন চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করবে এবং তার পরে কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রস্তাবের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাই বিভিন্ন মহলে চলা জল্পনায় কান না দিয়ে কর্মী ও পেনশনভোগীদের এখন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্যই অপেক্ষা করতে হবে।