ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কি সত্যি ওজন কমায়? নাকি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ভেক তৈরি করা জাদুকরী ডায়েট?

ওজন কমানো থেকে শুরু করে দীর্ঘায়ু লাভ—ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা অন্তর্বর্তী উপবাস নিয়ে জল্পনা ও জনপ্রিয়তার শেষ নেই। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এই ডায়েটের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে উপবাস বা দিনের নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্যগ্রহণ সীমাবদ্ধ রাখার এই পদ্ধতিটি সাধারণ ক্যালরি কমানোর চেয়ে জনপ্রিয় হলেও, এর দাবি করা স্বাস্থ্যগত সুবিধাগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যেই তীব্র বিতর্ক রয়েছে। শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টা ভারাডি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনো জাদু নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের সাথে বাস্তব তথ্যের অনেক ফারাক রয়েছে।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মূল ধারণাটি আমাদের পূর্বপুরুষদের বিবর্তিত খাদ্যাভ্যাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী মার্ক ম্যাটসনের গবেষণায় দেখা গেছে, উপবাসের ফলে শরীর চিনি পোড়ানোর বদলে ফ্যাট পোড়াতে শুরু করে, যাকে অটোফ্যাজি বলা হয়। এর ফলে সুস্থ কোষ ক্ষয়প্রাপ্ত প্রোটিন পুনর্ব্যবহার করে নতুন জীবন লাভ করে। ইঁদুর, মাছি ও কৃমির ওপর চালানো পরীক্ষায় এই ডায়েট দারুণ ফল দিলেও, মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা অনেকটাই সীমিত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অধ্যাপক ভারাডির মতে, এটি অন্য ডায়েটের মতোই প্রায় ৫% ওজন কমায় এবং বিপাকীয় ঝুঁকি কমায়, তবে ইঁদুরের মতো নাটকীয় ফল মানুষের শরীরে দেখা যায় না।
এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে—মৌলিক জৈবিক পার্থক্য এবং মানুষের প্রকৃত খাদ্যাভ্যাস নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করার অসম্ভবতা। মানুষের বিপাকীয় হার ইঁদুরের তুলনায় অনেক আলাদা, এবং মানুষের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্যও বেশি। হার্ভার্ডের পুষ্টিবিজ্ঞানী কোর্টনি পিটারসনের মতে, মানুষ আসলে কী খাচ্ছে তা নিখুঁতভাবে জানাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ওজন কমাতে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, তবুও অন্ধভাবে এটি অনুসরণ না করে নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।