রেলের খাবারে ইঁদুর-আরশোলা? যাত্রীদের সুরক্ষায় এআই ও ক্যামেরার চাবুকে বড় পদক্ষেপ রেল বোর্ডের!

রেলের ক্যাটারিং পরিষেবার মান এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য আরও উন্নত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রেল বোর্ড। ট্রেনের খাবারের মান, রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক ক্যাটারিং ব্যবস্থাপনার উপর নজরদারি বহুগুণ বাড়ানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সতীশ কুমার। সম্প্রতি আইআরসিটিসি (IRCTC) দফতরে গিয়ে ‘IRCTC War Room’-এর কাজকর্ম সরেজমিন পর্যালোচনা করেন তিনি। এই বৈঠকে যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া ফিডব্যাক, রান্নাঘরের লাইভ মনিটরিং এবং খাবারের গুণমান নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ জানাতে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার নির্দেশ দিয়েছেন সতীশ কুমার। এখন থেকে ‘Rail Madad’ ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা এক ক্লিকেই সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনে সরাসরি যাত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি, থার্ড-পার্টি বা পরিদর্শনকারী সংস্থাগুলির কাজের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাও কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কোন সংস্থা কোথায় কী ত্রুটি খুঁজে পেল এবং পরিদর্শনের সময় কী কী পদক্ষেপ করল, তার সমস্ত তথ্য নিয়মিত নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রান্নাঘরে নজরদারি বাড়াতে কাঁচামাল সংরক্ষণের জায়গায় অতিরিক্ত ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল বোর্ড। বর্তমানে যেখানে চারটি ক্যামেরা ফিডের মাধ্যমে রান্নাঘরের কাজ পর্যবেক্ষণ করা হয়, সেখানে এবার পিটিজেড (PTZ) ক্যামেরার সাহায্যে আরও ব্যাপক ও নিখুঁত নজরদারির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভিডিও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোনো রান্নাঘরের মান নিম্নমানের প্রমাণিত হলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক নোটিস দিয়ে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি পর্যালোচনায় দক্ষিণ-মধ্য রেলের অনন্তপুরের একটি রান্নাঘরে রুটি ও পরোটা তৈরির প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ধরা পড়ায় সেখানে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক নজরদারির ক্ষেত্রেও জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রেল। রান্নাঘরে ইঁদুর, আরশোলা বা অন্য কোনো ত্রুটি এআই (AI)-এর মাধ্যমে চিহ্নিত হওয়ার পর কেবল সতর্কতা জারি করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তৎক্ষণাৎ শোকজ নোটিস, সতর্কতামূলক চিঠি এবং প্রয়োজনে কড়া শাস্তিমূলক বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, কার্যকর পরিদর্শন এবং দ্রুত পদক্ষেপের হাত ধরে ভারতীয় রেলের ক্যাটারিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও বিশ্বমানের করে তোলাই এখন প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য।