আইফোনের ইএমআই নাকি পারিবারিক অশান্তি? মহারাষ্ট্রের মর্মান্তিক পাহাড় কাণ্ডে মুখ খুলল মৃত দম্পতির পরিবার!

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পাহাড়ের খাড়া ঢাল থেকে পড়ে ১৯ বছরের তরুণ কুণাল চন্দগুড়ের মৃত্যুর ঘটনায় নয়া মোড় এসেছে। কুণালের পরিবারের আত্মীয়দের দাবি, আইফোনের ইএমআই সংক্রান্ত যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছিল, তা সম্পূর্ণ “গুজব” ছাড়া আর কিছুই নয়। কুণালের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, সে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল এবং তার মূল লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হওয়া। দশম শ্রেণিতে সে ৮২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল। আত্মীয়দের বক্তব্য, বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের পারিবারিক মতবিরোধ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর জন্যই কুণাল তাঁদের ফের একসঙ্গে করার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছিল।

গত ২১ আগস্ট মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকালে কুণাল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি পাহাড়ের কিনারায় পৌঁছে যায়। খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল সেখানে গিয়ে নিরাপত্তা জাল পেতে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করে। ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তাঁর বাবা মুরলিধর ও মা সঙ্গীতা। ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা মুরলিধর ভারসাম্য হারিয়ে পাহাড় থেকে নীচে পড়ে যান। স্বামী ও সন্তানকে একসঙ্গে পড়ে যেতে দেখে মা সঙ্গীতাও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন, যার ফলে তিনজনেরই মৃত্যু হয়।

মৃত সঙ্গীতার বোন পল্লবী পাটিল আইফোন সংক্রান্ত সমস্ত দাবি দৃঢ়ভাবে খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, যারা এই ধরণের অসত্য গল্প ছড়াচ্ছে, তারা ঘটনার প্রকৃত সত্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। অন্যদিকে, মুরলিধরের বোন শোভা রাজেন্দ্র মাসকে জানিয়েছেন যে ২২ বছর আগে ওই দম্পতির প্রেমের বিয়ে হয়েছিল। পরিবার এই বিয়েতে অসন্তুষ্ট থাকায় মুরলিধরের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরেই তিক্ত ছিল। এই পারিবারিক টানাপোড়েন এবং দীর্ঘদিনের বিবাদই এই মর্মান্তিক পরিণতির নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty