স্বামীর পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করে ব্যাগে ভরছিলেন স্ত্রী! কুরুক্ষেত্রের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে এক ব্যক্তির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ২১ আগস্ট পেহোয়া রোডের রাজ প্যালেসের কাছের একটি বাড়িতে ৪০ বছর বয়সী রাজেশকে তাঁর স্ত্রী বিমলা দেবী নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে ছোট-বড় তিনটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, রাজেশের পেটে গভীর ক্ষতের জেরে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—মৃতের শরীর থেকে উধাও হয়েছে যকৃতের অর্ধেক অংশ ও একটি কিডনি!
কী ঘটেছিল সেদিন?
বাড়িওয়ালা রিঙ্কুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে তিনি একটি ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর তুমুল ঝগড়া ও চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। শব্দ শুনে ছাদে গিয়ে তিনি যা দেখেন, তাতে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। তিনি দেখতে পান, রাজেশ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন এবং তাঁর স্ত্রী বিমলা দেবীর হাতে থাকা ব্যাগটিতে স্বামীর নাড়িভুঁড়ি ভরার চেষ্টা করছেন। বাড়িওয়ালাকে দেখেই ভয়ে ছাদ থেকে লাফ দেন ওই মহিলা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে এবং পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি করে।
অন্ধবিশ্বাস বা কালোজাদুর ছায়া?
এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সাধারণ পারিবারিক বিরোধ ছাড়াও অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কেইউকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সুরেন্দ্র সিধু জানিয়েছেন, এফআইআর-এ ওই মহিলার ভূত তাড়ানো কিংবা জাদুবিদ্যার সঙ্গে জড়িত থাকার মতো কিছু চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কেবল খুন করাই যদি উদ্দেশ্য হতো, তবে শরীর থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে সরিয়ে ফেলার কোনো কারণ থাকত না। সেই কারণেই অন্ধবিশ্বাস বা গুপ্তবিদ্যার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।