২০ বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ কি বাতিল হবে? সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছে টিএমসি?

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং তাদের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যকার রাজনৈতিক বিবাদ এখন গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে স্পিকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ বেঞ্চ মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি করবে।

স্পিকারের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ

দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী এর আগে বিচারাধীন অযোগ্যতার আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, বর্ষাকালীন অধিবেশনে লোকসভার স্পিকার এই ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও করেছিলেন। পরবর্তীতে বিদ্রোহী সাংসদরা এনডিএকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করায় রাজনৈতিক সংঘাত চরমে পৌঁছায়। টিএমসির জোরালো যুক্তি হলো, এই সাংসদরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে অন্য শিবিরে যোগ দিয়েছেন, যা স্পষ্টতই দলত্যাগ বিরোধী আইনের লঙ্ঘন। অথচ স্পিকার এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছে দল।

কাঠগড়ায় ২০ বিদ্রোহী সাংসদ

টিএমসির দাখিল করা এই আবেদনে লোকসভার স্পিকার ও মহাসচিবের পাশাপাশি বিবাদী হিসেবে রাখা হয়েছে সেই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে। এই তালিকায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা ব্যানার্জি, প্রসূন ব্যানার্জি, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠানসহ মোট কুড়িজন সাংসদের নাম রয়েছে।

আগামীকাল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই হাই-প্রোফাইল মামলার কী রায় দেয় এবং দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।