‘সংরক্ষণ কোনো দান নয়, সাংবিধানিক অধিকার!’ খাড়গের মঞ্চ শুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য চিরাগ পাসওয়ানের

সংরক্ষণ একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং কোনো অবস্থাতেই তা বিলুপ্ত করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর প্রধান চিরাগ পাসওয়ান। একই সঙ্গে তিনি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ‘ক্রিমি লেয়ার’ বা বিশেষ সুবিধাভোগী স্তর এবং উপ-শ্রেণিবিন্যাসের ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
সংরক্ষণ কোনো উপহার নয়, সাংবিধানিক অধিকার
সোমবার এক বক্তব্যে চিরাগ পাসওয়ান বলেন, জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ কোনোভাবেই বাতিল করা সম্ভব নয়। এটি কোনো দান বা উপহার নয়, এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। পৃথিবীর কোনো শক্তিই এই ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারবে না। যাঁরা সংরক্ষণ পর্যালোচনা বা বাতিলের কথা ভাবেন, তাঁরা মূলত কেন এই ব্যবস্থার প্রয়োজন, সেটাই বুঝতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, মোদী সরকার উচ্চবর্ণের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করেছে। বাবাসাহেব বি.আর. আম্বেদকরের দূরদৃষ্টির ওপর ভিত্তি করেই এই ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং যতদিন তিনি সরকারের অংশ আছেন, এর সঙ্গে কোনো আপস হতে দেবেন না।
সমাজ আজও বৈষম্যের শিকার
সমাজে এখনও জাতিভিত্তিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতা বিদ্যমান রয়েছে বলে অভিযোগ করেন চিরাগ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলিত বরদের বিয়ের শোভাযাত্রায় বাধা দেওয়া বা বিশিষ্ট নেতাদের আগmনের পর মন্দির প্রাঙ্গণ গঙ্গার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার মতো ঘটনাগুলো কিসের ইঙ্গিত দেয়? কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কথা টেনে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, তিনি চলে যাওয়ার পর সেই মঞ্চটি কীভাবে ‘শুদ্ধ’ করা হয়েছিল, তা থেকেই সমাজের মানসিকতা স্পষ্ট হয়।
চিরাগের মতে, উপ-শ্রেণিবিন্যাস ও ‘ক্রিমি লেয়ার’ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে দলিতদের সম্মিলিত শক্তি কমতে শুরু করবে, যা প্রকারান্তরে সংরক্ষণ বিরোধী শক্তিগুলোকেই শক্তিশালী করবে।