কিম জং উন কি সত্যিই ফোন ধরছেন না? উত্তর কোরিয়ার নেতার মোবাইল বন্ধ রাখার আসল রহস্য কী?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও শত্রুতার কাহিনী বিশ্ব রাজনীতিতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে আসছে। এই দুই নেতার মধ্যকার বৈঠক, চিঠি এবং কথোপকথন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের আশা জাগিয়েছে, আবার অন্য সময়ে তা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে হয়েছে। এখন আবারও ট্রাম্প-কিম জুটি খবরের শিরোনামে এসেছে, তবে এবারের কারণ তাদের আলোচনা নয়, বরং আলোচনার অভাব। ট্রাম্প কিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে উত্তর কোরীয় নেতা তার ফোনকলের জবাব দিচ্ছেন না।
ট্রাম্প কেন কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান?
ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে কিম জং উনের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলোচনা শুরু করতে সাহায্য করতে পারে। তার প্রথম মেয়াদে, ট্রাম্প এবং কিম তিনবার মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেছিলেন। এই বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন, ট্রাম্প কিমের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সামরিক মহড়াও সংক্ষিপ্ত করেছে। ট্রাম্প এই মহড়াগুলোকে উত্তর কোরিয়ার জন্য ব্যয়বহুল এবং উস্কানিমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।
কিম কি সত্যিই ট্রাম্পের ফোন ধরছেন না?
ট্রাম্প নিজে বলেছেন যে কিম তার সর্বশেষ প্রচেষ্টার জবাব দিয়েছেন এবং কথোপকথনটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তবে, তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি যে কিমের সাথে তার সরাসরি কথা হয়েছে কিনা বা কোন চ্যানেলের মাধ্যমে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। এর বিপরীতে, কিমের বোন, কিম ইয়ো-জং বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এমন কোনো কথোপকথনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। এর অর্থ হলো, কিম সত্যিই তার ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন—এথা বলা সঠিক হবে না।
কিম কেন ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন না?
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উত্তর কোরিয়া আর ট্রাম্পকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। ২০১৯ সালে ট্রাম্প কোনো চুক্তি ছাড়াই হ্যানয় শীর্ষ সম্মেলন ত্যাগ করেন, যা দুই দেশের মধ্যে বিভেদকে আরও গভীর করে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কঠোর মন্তব্য এবং গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিয়েও পিয়ংইয়ং ক্ষুব্ধ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিম এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তাড়াহুড়ো করতে অনিচ্ছুক। উত্তর কোরিয়া একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি চায় এবং নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে নারাজ। ধারণা করা হয়, দেশটির কাছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।