যাদবপুরে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ মন্তব্য! মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে খোলা চিঠি দুই বাম ছাত্র সংগঠনের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তি এবং উত্তেজনার আবহে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও ছাত্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের একাংশকে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘জিহাদি’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ময়দানে নেমেছে এসএফআই (SFI) এবং এআইডিএসও (AIDSO)-র মতো বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তার ঐতিহ্যকে খাটো করার একটি সচেতন প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ তুলেছে এসএফআই-এর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটি। এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠিও পাঠানো হয়েছে সংগঠনের তরফে। অন্যদিকে, এআইডিএসও-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটিও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ছাত্র সংগঠনগুলির প্রধান অভিযোগ, গত ১৯ ও ২০ অগস্টের গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যে ভাঙচুর ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। অথচ তা না করে গোটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ ও শিক্ষককুলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে কখনই রাষ্ট্রবিরোধিতা বা জঙ্গি কানেকশনের তকমা দেওয়া যায় না বলে দাবি করেছে তারা।

একই সঙ্গে যাদবপুর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ, ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর মতো ঘটনার পেছনের আসল সত্য সামনে আনতে অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবিও তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় না দিয়ে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানিয়েছে দুই ছাত্র সংগঠন।