মেয়রের সুপারিশ নিয়ে তোলপাড়: দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে কমিটিতে বসানোর নেপথ্যে কী?

মুম্বাই পৌরসভার রাজনীতিতে নতুন এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি কোচিং ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতাকে শিক্ষা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটিতে নিয়োগের সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে মেয়রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো একে সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে তুলনা করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি বিশেষ সুপারিশপত্র ঘিরে, যেখানে বিএমসি স্কুলগুলোতে নতুন শিক্ষামূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ডঃ শ্রেণিক কোটেচাকে সাম্মানিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ডঃ কোটেচা অতীতে ‘মহেশ টিউটোরিয়ালস’ নামের একটি কোচিং ইনস্টিটিউট পরিচালনা করতেন, যা পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এই নিয়োগের চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশাসনিক স্তরে শোরগোল পড়ে যায়।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে মেয়র কঠোর অবস্থান নেন এবং চিঠিটিকে সম্পূর্ণ জাল বলে দাবি করেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি এমন কোনো সুপারিশ করেননি এবং তাঁর নাম ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। চিঠিতে কোনো দাপ্তরিক আগমন বা প্রস্থান রেজিস্টার নম্বর না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব। শিক্ষা কমিটির চেয়ারপার্সন এবং বিজেপি কর্পোরেটর রাজশ্রী শিরওয়াদকর মেয়রের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছেন যে তিনি সংশ্লিষ্ট চিঠিটি মেয়রের কার্যালয় থেকেই হাতে পেয়েছেন। এমনকি তিনি দাপ্তরিক প্রক্রিয়া মেনে ওই চিঠির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও জারি করেছেন। দুই শীর্ষ কর্মকর্তার এই পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে পৌর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিরোধী শিবিরও। বিএমসি-র বিরোধীদলীয় নেত্রী কিশোরী পেডনেকার মেয়রের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মেয়রের কার্যকাল বিভিন্ন বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত। এর আগে সরকারি গাড়ি ক্রয় বিতর্ক, ঐতিহাসিক বাংলোর সংস্কার ব্যয় এবং সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল নিয়েও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল মেয়রের কার্যালয়।
সাম্প্রতিক এই সুপারিশপত্র বিতর্ক মুম্বাই পৌর কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্তের পর আসল সত্য কি বেরিয়ে আসবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।