আগামী ২৪ আগস্ট শিবের কৃপা পাওয়ার সেরা দিন! শেষ সোমবারের পুজোয় ভুল করেও করবেন না এই কাজগুলো

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে শ্রাবণ মাসের চতুর্থ তথা শেষ সোমবার পড়ছে আগামী ২৪ আগস্ট। উত্তর ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, এই দিনটি শ্রাবণ মাসের অন্তিম প্রদোষ ব্রত হিসেবেও পালিত হবে। এই বিশেষ দিনে ‘আয়ুষ্মান’ এবং ‘প্রীতি’ যোগের এক বিরল ও শুভ সংযোগ তৈরি হচ্ছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে ভক্তিভরে মহাদেবের জলাভিষেক এবং শাস্ত্রীয় বিধান মেনে পুজো করলে দেবাদিদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং ভক্তের সমস্ত মনোষ্কামনা পূরণ করেন।
তবে শিব মন্দিরে পুজোর সময় কিছু বিশেষ নিয়ম ও ঐতিহ্য মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরে প্রবেশ থেকে শুরু করে শিবলিঙ্গে জল এবং বেলপত্র অর্পণ পর্যন্ত প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। আপনি যদি আগামী ২৪ আগস্ট শেষ সোমবারে শিবের আশীর্বাদ পেতে মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে পুজোর আগে এই নিয়মগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন।
শিব মন্দিরে পুজোর সঠিক নিয়মাবলি:
১. শুচিতা বজায় রাখা: মন্দিরে যাওয়ার আগে স্নান করে পরিষ্কার ও ধোয়া বস্ত্র পরিধান করা আবশ্যক। পুজোর জন্য শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
২. পাদুকা বর্জন: মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার বা চত্বর থেকে নিরাপদ দূরত্বে পাদুকা ত্যাগ করুন। মন্দির চত্বরে জুতো পরে প্রবেশ করা অনুচিত।
৩. প্রবেশের রীতি: শিব মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের সময় সর্বদা ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা শুভ বলে গণ্য হয়।
৪. মন্ত্র জপ: মন্দিরে প্রবেশের সময় ভক্তিভরে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্রটি জপ করার ঐতিহ্য রয়েছে, যা ভক্তের মনোযোগ পুজোর দিকে কেন্দ্রীভূত করে।
৫. নিজ হাতে জল নেওয়া: শাস্ত্র মতে, ভগবান শিবকে অর্পণের জন্য জল নিজ বাড়ি থেকে পবিত্র পাত্রে নিয়ে যাওয়াই শ্রেষ্ঠ। মন্দিরের নলের জল ব্যবহার না করারই রীতি।
৬. অভিষেকের ক্রম: পুজোর শুরুতে শুদ্ধ জল বা গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করা উচিত। এরপর যথাক্রমে দুধ, দই, মধু, ঘি ও চিনি দিয়ে পঞ্চামৃত অর্পণ করতে হয়। তার পরেই বেলপত্র, ভাঙ ও অন্যান্য উপকরণ চড়াতে হয়।
৭. বর্জনীয় দ্রব্য: ভগবান শিবের পুজোয় তুলসী, হলুদ ও সিঁদুর ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই শিবলিঙ্গে এই বস্তুগুলো অর্পণ করা থেকে বিরত থাকুন।
৮. বেলপত্রের গুরুত্ব: শিবলিঙ্গে সবসময় অক্ষত ও পরিষ্কার বেলপত্র অর্পণ করুন। বেলপত্রটি যেন তিন পাতা বিশিষ্ট এবং কাটা-ছেঁড়া না হয়।
৯. দেবগণের পূজা: শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করার আগে মন্দিরস্থ গণেশ, মাতা পার্বতী, কার্তিকেয় এবং নন্দী মহারাজের দর্শন ও পূজা করা জরুরি।
১০. পরিক্রমার নিয়ম: শিবলিঙ্গের পুরো পরিক্রমা করবেন না। যে পথ দিয়ে শিবলিঙ্গের জল নির্গত হয় (জলাধারী বা গোমুখী), তা লঙ্ঘন করা নিষেধ। জলাধারি পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকেই ফিরে আসাই শাস্ত্রমতে পূর্ণ পরিক্রমা।
এই নিয়মগুলো মেনে ভক্তিভরে পুজো করলে মহাদেবের অপার কৃপা ও শান্তি লাভ করা সম্ভব।