মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছোটার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি! চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ এলাকায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা, যা শুনলে যেকোনো মানুষের চোখেই জল চলে আসবে। একই পরিবারে মা এবং ছেলের পরপর এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই প্রৌঢ়ার নাম সালিমা বিবি (৬০) এবং তাঁর মৃত ছেলের নাম আহসান আলি (৩০)। এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে নিমতিতার শেরপুর এলাকায়।
পরিবার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আচমকাই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন ষাট বছর বয়সি সালিমা বিবি। পরিবারের সদস্যরা কোনো সময় নষ্ট না করে তাঁকে দ্রুত জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এরপর শুক্রবার একেবারে সাতসকালে হাসপাতালের তরফে মৃতের পরিবারের কাছে ফোন করে জানানো হয় যে, সালিমা বিবি আর বেঁচে নেই।
হাসপাতালের এই দুঃসংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে পড়েন তাঁর ৩০ বছর বয়সি ছোট ছেলে আহসান আলি। মায়ের নিথর দেহ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি। তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা লোকাল স্টেশনে পৌঁছে যান এবং একটি ট্রেনে উঠে বসেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে ঘটে যায় চরম বিপত্তি। চলন্ত ট্রেন থেকে হঠাৎ করেই নিচে পড়ে যান আহসান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর গভীর শোকে ও মানসিক অবসাদে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন আহসান। শোকের চরম উত্তেজনায় ট্রেনের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি সম্ভবত নিজেকে পুরোপুরি সামলাতে পারেননি, যার ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তিনি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে চলন্ত ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গেলেন, তা নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একে তো মায়ের চিরবিদায়, তার ওপর মুহূর্তের মধ্যে একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যু—সব মিলিয়ে এই জোড়া মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো পরিবার এবং শোকস্তব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।