সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ধুন্ধুমার! গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পিছু হটল CJP প্রতিনিধি দল

জয়পুরের রামপুরা কাঁওরপুরা গ্রামে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো দেখতে গিয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়ল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিনিধি দল। পূর্বনির্ধারিত এই পরিদর্শনের সময় স্কুলের সামনে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন দলের কর্মীরা। বাইরের লোকজনের স্কুল চত্বরে প্রবেশ নিয়ে শুরু হয় আপত্তি, যা দ্রুত তুমুল বচসা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
জানা গিয়েছে, জয়পুরের সাঙ্গানের এলাকার কাছে অবস্থিত ওই সরকারি স্কুলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে সিজেপি-র একটি দল পৌঁছায়। তবে দলীয় কর্মীরা স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করতেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে পথ আটকান। তাঁদের প্রধান অভিযোগ ছিল, স্কুলের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাইরের লোকজন বিনা নোটিশে বা পূর্বানুমতি ছাড়া কেন প্রবেশ করছেন। এই নিয়ে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন দলের সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সিজেপি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আশুতোষ রাঙ্কা ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করা হয় এবং তাঁদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি দলের কর্মী শিবাঙ্গী শর্মার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের একাংশ তাঁদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘নকশাল’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। শিবাঙ্গী শর্মার প্রশ্ন, দেশের যেকোনো প্রান্তে নাগরিক হিসেবে শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমস্যা খতিয়ে দেখার অধিকার সকলেরই রয়েছে, সেখানে বাইরের বা ভেতরের তকমা কেন টানা হবে?
তবে এই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। এমনকি সিজেপি-র পক্ষ থেকে মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত কোনো পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না বা কোনো আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে এই আকস্মিক উত্তেজনা ও হাতাহাতির প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। পুলিশি তদন্ত এবং দুই পক্ষের বিস্তারিত বিবৃতির পরেই এই ঘটনার নেপথ্যের আসল সত্য প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।