“উত্তম কুমার মানেই ইন্ডাস্ট্রি!” জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে নস্ট্যালজিক দেবশ্রী রায় ফাঁস করলেন অজানা সব সত্য

মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চারদিক এখন উৎসবের আমেজে মুখরিত। শুধু ব্যক্তিগত বা ঘরোয়া স্তরেই নয়, মহানায়কের এই জন্মশতবর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে বাংলার বুকে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে একাধিক বড় মাপের চোখ ধাঁধানো সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করা হবে বাংলা সিনেমার অবিসংবাদিত সম্রাটকে। তবে সরকারি মূল উৎসবের বহু আগেই কলকাতার বুকে শুরু হয়ে গেছে এক আবেগঘন বিশেষ প্রদর্শনী, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘উত্তম- দ্য মহানায়ক’। প্রখ্যাত সংগ্রাহক সুদীপ্ত চন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ২৪ অগস্ট পর্যন্ত কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আইসিসিআর-এর যামিনী রায় গ্যালারিতে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। প্রতিদিন দুপুর ৩টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই প্রদর্শনীতে উপচে পড়ছে সাধারণ মানুষের ভিড়।
উক্ত প্রদর্শনীর উদ্বোধনী মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রবীণ অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। মহানায়কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, “আমার কাছে ইন্ডাস্ট্রি মানেই উত্তম কুমার আর উত্তম কুমার মানেই ইন্ডাস্ট্রি। এদের কখনই আলাদা করা যায় না।” বর্তমানের বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে তিনি এখনকার ফিল্ম জগৎ আর বুঝতে পারেন না। মহানায়কের সঙ্গে নিজের শৈশবের মধুর স্মৃতির কথা স্মরণ করে দেবশ্রী জানান যে তিনি ছোটবেলায় মহানায়কের কোলেও চড়েছেন এবং কিংবদন্তি সুচিত্রা সেনকে নিজের চোখে দেখেছেন।
দেবশ্রী আরও বলেন, উত্তম কুমার কেবল একজন দুর্দান্ত অভিনেতা নন, তিনি ছিলেন আদ্যন্ত আধুনিক এক প্রতিভা। আজকের আধুনিক প্রজন্মের কোনো দর্শক যদি আজ বসে তাঁর পুরনো ছবিও দেখেন, তবে তাঁদের একটুও মনে হবে না যে তারা কোনো সেকেলে বা পুরনো ছবি দেখছেন; বরং মনে হবে যেন এইমাত্র কেউ নিখুঁত অভিনয় করে গেলেন। উত্তম কুমার নিজেই একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। তাঁকে অভিনয় শিখতে কোনো আলাদা অভিনয় বিদ্যালয়ে ছুটতে হয় না। শুধু তাই নয়, গোপনে বহু মানুষকে পরিচালক বানিয়ে দেওয়া এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে মানুষের নিঃশব্দে উপকার করার যে মানসিকতা তাঁর ছিল, আজকের দিনে এমন উদারতা সত্যিই বিরল। যেদিন তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, সেদিন বাংলার বহু বাড়িতে রান্নাই হয়নি।
উল্লেখ্য, সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে মহানায়ক উত্তম কুমারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও স্মৃতিবিজড়িত সমস্ত উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলোকে কেন্দ্র করে এবার এক আকর্ষণীয় হেরিটেজ ওয়াকের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর জন্মদিনে ঘড়ি কাঁটায় ঠিক মধ্যরাতে কেক কেটে সেলিব্রেশন করা থেকে শুরু করে মহানায়কের সমস্ত সেরা সিনেমা নিয়ে একটি এক্সক্লুসিভ ছোট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের। পাশাপাশি তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী, তাত্ত্বিক সেমিনারে বসবে বুদ্ধিজীবীদের আসর। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই বাংলার কিংবদন্তি মহানায়ককে মহাসমারোহে শ্রদ্ধা জানানো হবে।