গ্রিন কার্ডের নিয়মে বিরাট বদল! মার্কিন মুলুকে পাকাপাকি থাকার স্বপ্ন দেখছেন? এই ভুল করলেই বাতিল হবে আবেদন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যারা পাকাপাকিভাবে বসবাসের কথা ভাবছেন বা দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আশায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা সামনে এসেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) গ্রিন কার্ড বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির অফিসিয়াল আবেদনপত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে চলেছে। আগামী মাস থেকেই এই কঠোর নিয়মটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট তারিখের পর ভুল বা পুরনো ফর্ম জমা দিলে তা যাচাই না করেই সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হবে।
ইউএসসিআইএস-এর সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, Form I-485—যা মূলত ‘Application to Register Permanent Residence or Adjust Status’ নামে সুপরিচিত—তার একটি নতুন সংস্করণ আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চালু করা হচ্ছে। আমেরিকার মাটিতে বসবাসকারী এবং গ্রিন কার্ডের যোগ্য আবেদনকারীরা এই নির্দিষ্ট ফর্মটির মাধ্যমেই আইনগতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য আবেদন করে থাকেন। বিশেষ করে কাজের সূত্রে কিংবা পারিবারিক কারণে বহু ভারতীয় নাগরিক বছরের পর বছর ধরে এই অভিবাসী ভিসা নম্বরের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই নিয়মের আকস্মিক রদবদলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় পেশাদার ও অভিবাসীদেরই।
সংস্থার পক্ষ থেকে পরিষ্কার নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে যে নতুন ফর্মের সংস্করণ তারিখ হবে ‘September 18, 2026’, যা পূর্বের ‘January 20, 2025’ সংস্করণের স্থান দখল করবে। আবেদনকারী ও আইনি পরামর্শদাতাদের সুবিধার জন্য একটি প্রিভিউ ইতিমধ্যেই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এটি অত্যন্ত লক্ষণীয় যে, পুরনো ও নতুন ফর্ম একসঙ্গে গ্রহণ করার জন্য কোনো ধরনের অতিরিক্ত সময় বা ছাড় দেওয়া হবে না। ফলস্বরূপ, আবেদনকারীদের পোস্টমার্কের তারিখ এবং জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। ১৮ সেপ্টেম্বরের আগে পুরনো ফর্ম গ্রহণযোগ্য হলেও, ওই তারিখ বা তার পরে পুরনো ফর্ম জমা পড়লে তা তৎক্ষণাৎ বাতিল বলে গণ্য হবে।
নিয়ম বদলের নেপথ্য কারণ হিসেবে ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত কঠোর নীতিগুলির কথা উল্লেখ করেছে অভিবাসন দফতর। এর মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয় যে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে নিজের জীবনধারণের জন্য মার্কিন সরকারের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না। যদিও এই প্রশাসনিক আপডেটের ফলে ফাইলিং ফি বা আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ভারতীয় নাগরিকরা মার্কিন অভিবাসনের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছেন। তাই প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট কোটার জটিল বেড়াজালে আটকে থাকা আবেদনকারীদের জন্য এই নিয়ম পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।