যাদবপুর কাণ্ডে হাই-লেভেল তদন্ত কমিটি! উপাচার্যের চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ভাঙচুর, সহিংসতা ও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মোকাবিলায় অবশেষে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং সমস্ত স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত থেকে এই তদন্ত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যে সমস্ত জায়গায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে, ঠিক সেই স্থানগুলিতেই অবস্থান বিক্ষোভে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জুটা (JUTA)। এছাড়া আজ থেকে আগামী চার দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা লাগাতার ‘সিজ ওয়ার্ক’ বা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন, যার জেরে পঠনপাঠন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাতের ভয়াবহ ঘটনার পর কেন তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি, সেই প্রশ্ন যখন চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সেদিন রাতে পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল এবং উত্তপ্ত থাকায় তাঁর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। তবে গত রাতের পরিবর্তে আজ শুক্রবারই বুধবার এবং ১৯ ও ২০ তারিখের সমস্ত ঘটনার বিবরণ যুক্ত করে সুনির্দিষ্ট এফআইআর দায়ের করা হবে। পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একা নেবে না, বরং সদ্য গঠিত ইনভেস্টিগেশন কমিটি বা তদন্ত কমিটিই সমস্ত ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সার্ভারে সিসিটিভি ফুটেজ অন্তত এক মাস সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
রাতের বেলা কেন তিনি নিজে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতে পারেননি, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উপাচার্য তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান যে, ২০১৮ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে এবং গভীর রাতে তাঁর পক্ষে ক্যাম্পাসে ছুটে আসা শারীরিক দিক থেকে সম্ভব ছিল না। ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারের উচ্চমহল এবং রাজ্যপালের সঙ্গেও গোটা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান বের হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ আউটপোস্ট বা পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন উপাচার্য। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে হাইকোর্টের রায়ে দুটি প্রধান অংশ ছিল—যার প্রথমটি সিসিটিভি সংক্রান্ত নির্দেশ, যা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই কার্যকর করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় অংশটি অর্থাৎ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে পুলিশ মোতায়েন করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই বাস্তবায়ন করেনি। উপাচার্য দৃঢ়তার সঙ্গে মত প্রকাশ করেছেন যে, তাঁরা পুলিশের লাঠি বা জবরদস্তি দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী নন। বরং শিক্ষক, ছাত্র ও অশিক্ষক কর্মীদের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতাতেই ক্যাম্পাসের সৌহার্দ্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। তবে যে দলেরই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের এই ধরনের বেআইনি অনুপ্রবেশ ও উপদ্রব কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।