আইন স্নাতকদের জন্য বিরাট স্বস্তি! জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার নিয়মে বড় বদল আনল সুপ্রিম কোর্ট

বিচার বিভাগে নতুন পদে যোগদানের ক্ষেত্রে আইন স্নাতকদের জন্য তিন বছরের বাধ্যতামূলক আইন পেশার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশিকা সংশোধন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত আইন স্নাতকগণ তিন বছরের প্র্যাকটিস বা অনুশীলন সম্পন্ন না করেই সরাসরি বিচার বিভাগীয় পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের অন্তত এক বছরের সক্রিয় অনুশীলন থাকা আবশ্যক বলে গণ্য করা হবে এবং নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের কঠোর কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও ক্লার্কশিপ সম্পন্ন করতে হবে। রায়ের এই পুনর্বিবেচনা পর্বে বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রন কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করলেও সামগ্রিকভাবে সংশোধিত নির্দেশিকা বহাল রাখা হয়েছে।

সর্বোচ্চ আদালতের নতুন এই নির্দেশিকার মূল দিকগুলি খতিয়ে দেখলে বেশ কিছু পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৭ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থীরা কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা দীর্ঘ তিন বছরের প্র্যাকটিসের বাধার সম্মুখীন না হয়েই আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁদের সরাসরি বিচারিক দায়িত্ব দেওয়ার পরিবর্তে প্রথমে এক বছরের জন্য ‘শিক্ষানবিশ বিচারিক কর্মকর্তা’ (Probationary Judicial Officer) হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এই সময়কালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের রাজ্য বিচার বিভাগীয় অ্যাকাডেমিতে এক বছর ধরে নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি, একজন জেলা জজ বা উচ্চ বিচার বিভাগীয় পরিষেবার অধীনে ৬ মাস এবং একজন কর্মরত হাইকোর্ট বিচারপতির অধীনে আরও ৬ মাসের সুনির্দিষ্ট ক্লার্কশিপ বা ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপের সফল সমন্বয়ের মাধ্যমেই ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে।

তবে এই ছাড় শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্যই প্রযোজ্য। স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল বা তার পরে ঘোষিত যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদন করার পূর্বে প্রার্থীদের সুনির্দিষ্টভাবে কমপক্ষে এক বছরের সক্রিয় পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতেই হবে। একইসঙ্গে দেশের সমস্ত রাজ্যের হাইকোর্টগুলিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের নিজ নিজ বিচার বিভাগীয় চাকরি বিধিমালা সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই নতুন প্রকল্পটি আগামী পাঁচ বছর ধরে কার্যকর থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট এর কার্যকারিতা ও ফলাফল পর্যালোচনা করবে।

রায়দানকালে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বিচার বিভাগে যোগদানের পূর্বে একজন প্রার্থীর মৌলিক আইনি অভিজ্ঞতা থাকা অত্যন্ত জরুরি—এই যুক্তিতে বেঞ্চের কোনো দ্বিমত নেই। তবে সাধারণ চাকরিপ্রার্থী আইন স্নাতকদের যেন কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করতেই পূর্ব অভিজ্ঞতার এই আবশ্যকতাকে একটি যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। বর্তমান সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় পর্যালোচিত পুরনো নিয়মের জেরে থমকে থাকা যোগ্য প্রার্থীরাও নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।