দিল্লির ভবিষৎ বদলাতে মাস্টার প্ল্যান ২০৪৭! ৩০ লক্ষ নতুন বাড়ি থেকে ২৪ ঘণ্টা মেট্রো পরিষেবা—কী রয়েছে এই মেগা পরিকল্পনায়?

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রাজধানী শহরকে আরও আধুনিক এবং উন্নত করে তুলতে এক সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ নিয়ে সামনে এল দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার ঘোষণা অনুযায়ী, ‘দিল্লি মাস্টার প্ল্যান ২০৪৭’-এর মূল লক্ষ্য হলো শহরের সুষম, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই পরিকল্পনা শুধু নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পিত এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর আওতায় আনা হয়েছে শহরের গ্রামীণ অঞ্চল এবং অনুমোদনহীন কলোনিগুলোকেও। আবাসন, পরিবহন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক কার্যকলাপ এবং সামগ্রিক নগরায়ণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে এই মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দিল্লির বর্তমান ভৌগোলিক আয়তন মাত্র ১,৪৮৪ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সীমিত জায়গার ওপর বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও পরিকাঠামোর চাপ সামলাতে পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে দিল্লিতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ নতুন বাড়ির প্রয়োজন হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে শহরের জনসংখ্যা বর্তমানের ২.৪ কোটি থেকে বেড়ে প্রায় ৩.২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে জমি এবং বাসস্থানের ওপর চাপ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন এই মাস্টার প্ল্যানের অন্যতম প্রধান দিক হলো পরিবেশ দূষণ মোকাবিলা এবং গণপরিবহনের মান উন্নত করা। মেট্রো রেল, বিভিন্ন বাস রুট এবং আধুনিক আরআরটিএস করিডোরগুলির নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রানজিট করিডোর বরাবর ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে ‘ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট’ (TOD) কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলকে ‘২৪x৭ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন এবং মেট্রো পরিষেবা চালু থাকবে।

বাণিজ্যিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় সিদ্ধান্ত। ৩০ মিটার চওড়া রাস্তার ধারে অবস্থিত বিল্ডিংগুলির গ্রাউন্ড ফ্লোরে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে। কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলির প্রশস্ততা প্রায় ১৮ মিটার রাখার কথা বলা হয়েছে এবং মাস্টার ট্রাঙ্ক রোডগুলির জন্য ৪৫ মিটার ‘রাইট অফ ওয়ে’ রাখা হবে। উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (DDA) গঠনের মাধ্যমে শহরে পরিকল্পনাভিত্তিক উন্নয়নের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার আধুনিক রূপই হলো এই মাস্টার প্ল্যান ২০৪৭।