কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক! দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও পোক্ত করতে আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত একশো দিনে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ (STF), অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এবং অ্যান্টি নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স (ANTF) একের পর এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এজেন্সির গত ১০০ দিনের কর্মদক্ষতা, বিভিন্ন সফল অভিযান এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াড এবং অ্যান্টি নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ বাহিনীগুলির নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি কী হবে, রাজ্য পুলিশের অধীনে থেকে অন্যান্য গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা এজেন্সির সঙ্গে তারা কীভাবে নিখুঁত সমন্বয় রেখে কাজ করবে, আজকের বৈঠকে তা নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা করা হবে। এর পাশাপাশি দেশের অন্যতম সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সীমান্ত সুরক্ষা নিয়েও আলাদাভাবে বিশদ আলোচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গ সফরে এসে আজই এই মেগা বৈঠকগুলি সারছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। শিলিগুড়িতে নবগঠিত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইন নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষ করার পরই তিনি এই প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিএসএফের (BSF) কাঁটাতার নির্মাণ ও আউটপোস্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তারিং প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে, তা নিয়েও চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
গত একশো দিনে রাজ্যের তরফে নিরাপত্তা ও পুলিশের আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার একটি বিস্তৃত খতিয়ানও আজ পেশ করা হবে। সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে বিএসএফকে ৭৬৭.১০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৩৬১.৯৩ একর জমি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ইছামতী নদী বরাবর সীমান্ত বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় ৯১৫ একর জমির সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই সফলভাবে শেষ হয়েছে।
শুধু সীমান্ত সুরক্ষা নয়, দেশের ১২টি সীমান্তবর্তী জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ১,৩৮৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৮২.৪৬ কোটি টাকা। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৩টি বিশেষ এনআইএ (NIA) আদালত গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুটির উদ্বোধন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও, গত তিন মাসে রাজ্যের ২৫টি থানায় সিসিটিভি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, নজরদারি বাড়াতে ১২টি রেডিও মোবাইল ভ্যান ও ৯টি মহিলা টহলদারি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পুলিশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে ১,৫০০টি রেডিও হ্যান্ডসেট ট্রান্সমিটার সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে, দেশের নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।