চিনির বাজারে আগুন! উৎসবের মরশুমে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের, জারি নতুন স্টক লিমিট!

উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই দেশের বাজারে চিনির লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ট্যারিফ রেট কোটার (TRQ) অধীনে এই নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শুল্ক দিতে হবে না। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও জোগানের ব্যবধান মেটাতে সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ বাজারে স্বস্তি ফেরাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মরশুমে উৎসবের আবহে চিনির চাহিদা হু হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে খুচরো ও পাইকারি বাজারে দাম রেকর্ড স্তরে পৌঁছানোর উপক্রম হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে ও মিষ্টির বাজারে স্বস্তি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক ‘সুগার (স্টকহোল্ডিং লিমিট অফ বাল্ক কনজিউমারস) অর্ডার, ২০২৬’ জারি করেছে। এই নতুন নিয়মের আওতায় যেসব বড় বাণিজ্যিক গ্রাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতারা মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য মজুত রাখার ক্ষেত্রে কঠোর সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ধরনের বড় ক্রেতারা এখন থেকে কেবল ১৫ দিনের ব্যবহারের সমান পরিমাণ চিনিই নিজেদের গুদামে মজুত রাখতে পারবেন। কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক, নরম পানীয় প্রস্তুতকারক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট এবং বড় মিষ্টি বিক্রেতারা এই নিয়মের আওতাভুক্ত।

অন্যদিকে, খুচরো বাজারে চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ছিল। উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুচরো বাজারে চিনির দাম বিগত এক বছরে প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে কেজি প্রতি ৫২.৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মূলত অগস্ট থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী সময়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন বড় উৎসবের উৎসবমুখর আবহে চিনির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। চিনির মিল-গেট বা কারখানা-পর্যায়ের দর বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অপর্যাপ্ত স্টককে দায়ী করা হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় জানিয়েছেন যে সরকারের এই সুচিন্তিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাজারে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাবে। এর ফলে আগামী এক বছর ধরে দেশের সমস্ত উপভোক্তাদের কাছে ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সরকারের এই যুগপৎ আমদানির শুল্কছাড় এবং মজুতসীমা নির্ধারণের নীতি উৎসবের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি রোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।