বন্দেমাতরম বিতর্কে কঙ্গনার তোপ! শর্মিলাকে ‘সংীর্ণ মানসিকতা’ ত্যাগ করার কড়া বার্তা অভিনেত্রীর!

জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’ (Vande Mataram) এবং এর ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন বলিউড অভিনেত্রী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কঙ্গনা রানাওয়াত। গানটির কয়েকটি স্তবক নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের তোলা আপত্তির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঙ্গনা তাঁকে সমস্ত ধরনের ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা’ বা সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এই ঐতিহাসিক কবিতাটিকে কোনোভাবেই একটি সীমাবদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটি ভারতের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক এবং এর শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল যখন প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ‘আইএএনএস’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জাতীয় সংগীত বা ‘বন্দেমাতরম’-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল যে গানটির পরবর্তী অংশগুলোতে হিন্দু দেব-দেবীদের যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে একেশ্বরবাদী বা নির্দিষ্ট কিছু ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের পক্ষে তা মেনে চলা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তিনি আরও বলেছিলেন যে সমস্ত ধর্মপ্রাণ মানুষের কথা মাথায় রেখে প্রথম দুটি স্তবকই যথেষ্ট চমৎকার। এই সাক্ষাৎকারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়।
শর্মিলা ঠাকুরের এই ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর প্রতিক্রিয়ায় লেখেন যে, প্রবীণ অভিনেত্রী নিজের সংশয় বা আপত্তি প্রকাশ্যে আনতে পেরেছেন—এটিকে তিনি সাধুবাদ জানাচ্ছেন, তবে শর্মি্লার ব্যাখ্যার সঙ্গে তিনি একেবারেই একমত নন। কঙ্গনার যুক্তি, শিল্পকলায় বা কবিতায় প্রায়শই বিভিন্ন রূপকের ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলোকে আবশ্যিকভাবে কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এক অনন্য প্রাণস্পন্দন জুগিয়েছিল এবং এর মাধ্যমে জাতিকে অন্তরের শক্তি জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। স্বামী বিবেকানন্দের একটি বিখ্যাত উক্তির প্রসঙ্গ টেনে কঙ্গনা বোঝাতে চান যে সাহিত্যের রূপককে আক্ষরিক অর্থে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে বাঁধা বোকামি।
উল্লেখ্য, ১৮৭০-এর দশকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এবং পরবর্তীতে তাঁর বিখ্যাত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত এই গানটি আমাদের দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। গানটির প্রথম দুটি স্তবকে মাতৃভূমির বন্দনা করা হয়েছে, অন্যদিকে পরবর্তী অংশগুলোতে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো দেবীদের উল্লেখ রয়েছে। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের গণপরিষদ এই গানের প্রথম দুটি স্তবককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় গান’ (National Song) হিসেবে মর্যাদা দেয়। বর্তমানে এই গান ঘিরে চলা নতুন রাজনৈতিক ও শৈল্পিক বিতর্কের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।