শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাই কি আসল লক্ষ্য? মেটার বিরুদ্ধে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস প্রাক্তন ডিরেক্টরের!

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা (Meta) কি ছোটদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা জেনেশুনেই এড়িয়ে চলত? মার্কিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সংস্থার প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর আর্তুরো বেজার। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে চলা এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সামনে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আর্তুরো বেজারের দাবি অনুযায়ী, সংস্থার অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ‘ডোন্ট আস্ক, ডোন্ট টেল’ নীতি বজায় রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, প্রডাক্ট ডিজাইনিংয়ের ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা বা মানসিক কল্যাণের চেয়ে প্ল্যাটফর্মের এনগেজমেন্ট এবং ব্যবসায়িক লাভকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। ব্যবহারকারীরা কতক্ষণ অ্যাপে আটকে থাকছেন, সেটাই ছিল মেটার মূল লক্ষ্য। এর ফলে কচি মনের ওপর যে নেতিবাচক মানসিক প্রভাব পড়ছে, সেদিকে সম্পূর্ণ চোখ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, শিশুদের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি এবং নিউ জার্সি—এই চার রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই মামলার বিচারপর্ব। আগামী ছয় সপ্তাহ ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি চলার কথা রয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ মোট ২৯টি রাজ্য মেটার বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল।

মামলাকারীদের মূল অভিযোগ, মেটা জেনেশুনে এমন সব আসক্তি তৈরি করার মতো ফিচার বা কৌশল ডিজাইন করেছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের মানসিকভাবে গ্রাস করে। অথচ এই ফিচারগুলির সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের আগে থেকে সতর্ক করা হয় না। পাশাপাশি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে সংগ্রহ করার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে মেটার বিরুদ্ধে, যা সরাসরি ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ একসরে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে মেটা। সংস্থার আইনজীবী পল শ্মিট আদালতের সওয়াল-জবাবে জানিয়েছেন, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মেটার নিয়ম অনুযায়ী, COPPA বা চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, যেখানে ১৩ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট তৈরি করার অনুমতি নেই। সংস্থার দাবি, কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবক মহলের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে তারা। এই আইনি লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।