অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ কাণ্ডে তুলকালাম! বেসরকারি ব্যাঙ্ককে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা এবং দুটি ক্রেডিট কার্ড ব্লক করার সংক্রান্ত মামলায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। শুনানির শুরুতেই বেসরকারি ব্যাঙ্কের আইনজীবী এবং তাদের খামখেয়ালি অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতি। আদালত সরাসরি প্রশ্ন তোলে, যেখানে বর্তমানে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কিং পরিষেবা অনলাইনে কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করার মাধ্যমে সহজে সম্পন্ন হয়, সেখানে একজন সংসদ সদস্যকে বারবার সশরীরে ব্যাঙ্কে তলব করার আসল উদ্দেশ্য কী? বিচারপতির তীক্ষ্ণ মন্তব্য, “ব্যাঙ্ক কি তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখতে চাইছে?”

এদিনের শুনানিতে ব্যাঙ্কের আইনজীবীর বিরুদ্ধে অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আদালতে ব্যাঙ্ক প্রথমে দাবি করেছিল যে কেওয়াইসি (KYC) আপডেট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। কিন্তু পরে সওয়াল-জবাবের সময় জানানো হয় যে একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে থাকার কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই স্ববিরোধী বার্তার পরই বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ, “আপনারা এভাবে বারবার নিজেদের অবস্থান বদলাতে পারেন না। প্রথমে বললেন কেওয়াইসি, আর এখন বলছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত! ব্যাঙ্কের এই অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তার অজুহাত আদালত মেনে নেবে না।”

মামলার সওয়াল করতে গিয়ে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য জানান যে তাঁর মক্কেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রেডিট কার্ড আকস্মিকভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, অথচ এর আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানো হয়নি। পরবর্তীতে খোঁজ নেওয়া হলে কেওয়াইসি করানোর অজুহাত দেখানো হয়, অথচ আইনি নথিপত্র অনুযায়ী ওই কেওয়াইসি বৈধ থাকার কথা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। অন্যদিকে, ব্যাঙ্কের আইনজীবীর তরফে দাবি করা হয় যে ইডির (ED) চলমান তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে নাম ও ফোন নম্বর মিলে যাওয়ায় গোপনীয়তা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের কর্মী বাড়ি গিয়ে কেওয়াইসি সম্পন্ন করে আসবে বলেও জানানো হয়।

তবে ব্যাঙ্কের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। হাইকোর্টের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে গ্রাহককে অন্ধকারে রেখে এমন একতরফা পদক্ষেপ কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ হতে পারে না। আদালত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ব্যাঙ্ক যদি দ্রুত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করে এবং সমস্যার সম্মানজনক সমাধান না করে, তবে খোদ ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে আদালতে তলব করা হতে পারে। বেলা ১টার মধ্যে কেওয়াইসি সংক্রান্ত সঠিক এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার পরবর্তী শুনানির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।