আদালতের নির্দেশেই কি বড় সিদ্ধান্ত? বাতিল হল শিক্ষক নিয়োগের সেই বিতর্কিত সুপার নিউমেরারি পদ!

কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য পূর্বের তৃণমূল সরকারের তৈরি করা বিতর্কিত সুপার নিউমেরারি বা অতিরিক্ত শূন্যপদ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে রাজ্যের নবনিযুক্ত বিজেপি সরকার। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষক নিয়োগের জট কাটানোর প্রক্রিয়ায় এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
কলকাতা হাইকোর্টের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান যে, অতীতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চ অযোগ্য প্রার্থীদের অবৈধভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে রায় দিয়েছিল। সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশ মেনেই রাজ্য সরকার এখন ২০১৯ সালের ১৯ মে জারি করা তৎকালীন সরকারের অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির মূল বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল বা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাক্তন বিচারপতি বসুর দেওয়া সেই ঐতিহাসিক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, এদিন তা বিচারপতি রাজা শেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চের এজলাসে শুনানির জন্য ওঠে। সেখানেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জানানো হয়।
এই বিষয়ে আদালত রাজ্যকে একটি বিস্তারিত হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ বক্তব্য লিখিতভাবে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার পরবর্তী দফার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ধার্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কর্মশিক্ষায় ৭৫০টি এবং শারীরশিক্ষায় ৮৫০টিসহ মোট ১৬০০ শূন্যপদে নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই অতিরিক্ত সুপার নিউমেরারি পদগুলি তৈরি করেছিল। সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করে তৎকালীন চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারসল হন। সেই মামলাতেই প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু রাজ্যের আনা সেই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দেন।
নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে যখন পূর্ববর্তী সরকার কোণঠাসা, ঠিক তখনই ওয়েটিং লিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রার্থীদের আইনি উপায়ে চাকরি পাইয়ে দিতে এই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির রাস্তা বেছে নেওয়া হয়েছিল। যদিও এই সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথকভাবে মামলা করে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র যুক্ত নন। যোগ্য প্রার্থীদের শূন্য আসনের অভাবে বঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা করতেই সরকার এই বিকল্প পথ নিয়েছিল এবং তাঁরা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ যোগ্য। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং মামলার প্যাঁচে সেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল। এবার রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটতেই আগের সরকারের সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার বড় ঘোষণা করল নতুন সরকার।