দেবের ব্যাটে রানের পাহাড় আর মানবের ঘূর্ণি জাদু! লঙ্কা বধ করে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ল টিম ইন্ডিয়া

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ও অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে ভারত শক্তিশালী শ্রীলঙ্কা দলকে ১৬৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভারত ১-০ ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ লিড অর্জন করল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য ৩৭২ রানের লক্ষ্যমাত্রা ঝুলিয়ে দিয়েছিল, যার জবাবে লঙ্কান বাহিনী মাত্র ২০৬ রানে অলআউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায়। টিম ইন্ডিয়ার এই জয়ের পেছনে সবথেকে বড় অবদান রেখেছেন তরুণ উদীয়মান স্পিনার মানব সুথার এবং অভিজ্ঞ ব্যাটিং তারকা দেবদূত পাডিক্কাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে টিম ইন্ডিয়া। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে পাহাড়সমান ৪৬০ রান সংগ্রহ করে। এর জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার দল প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়, যার ফলে ভারত প্রথম ইনিংসেই ১৭৮ রানের বড় ও নিরাপদ লিড পেয়ে যায়। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ১৯৩ রানে অলআউট হয়ে গেলে শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য কঠিন ৩৭২ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। সেই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লঙ্কান ব্যাটাররা ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২০৬ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে ভারত ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি নিজেদের নামে করে নেয়।
এই দুর্দান্ত জয়ের নেপথ্য নায়ক ছিলেন তরুণ স্পিনার মানব সুথার। তাঁর বিধ্বংসী ও মায়াবী স্পিন বোলিংয়ের সামনে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সুথার দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৬ জন লঙ্কান ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে দুর্দান্ত তাণ্ডব চালান। এর আগে প্রথম ইনিংসে তিনি শিকার করেছিলেন ৪টি উইকেট। ফলে এই টেস্টের প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংস মিলিয়ে মানব সুথারের মোট উইকেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টিতে। তাঁর এই অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দেয়।
অন্যদিকে, বলের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেন ভারতের প্রতিভাবান তিন নম্বর ব্যাটার দেবদূত পাডিক্কাল। তিনি দলের প্রথম ইনিংসে দায়িত্বশীল ও আকর্ষণীয় ব্যাটিং করে এক দুর্দান্ত ১৬৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যার ওপর ভর করেই ভারত প্রথম ইনিংসে ৪৬০ রানের বড় স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছিল। শুধু প্রথম ইনিংসেই নয়, দেবদূত দ্বিতীয় ইনিংসেও অত্যন্ত কার্যকরী এবং দলের প্রয়োজনের সময় মূল্যবান ৪৪ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর এই দুই ইনিংসের ধারাবাহিক অবদান শ্রীলঙ্কার বোলারদের কোণঠাসা করে রাখে এবং ভারতকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেয়। সামগ্রිකভাবে এই টেস্ট জয় ভারতীয় দলের বেঞ্চ স্ট্রেন্থ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রইল।