প্রথাগত আইটি ব্যবসার দিন কি শেষ? বড় ধাক্কার আশঙ্কায় টাটা, উইপ্রো ও ইনফোসিস নিয়ে বড় রায় নামী ব্রোকারেজের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence)-এর অবিশ্বাস্য অগ্রগতির প্রভাবে দেশের ঐতিহ্যবাহী তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সার্ভিস সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্রোকারেজ ফার্ম সিএলএসএ (CLSA)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ বাজার সমীক্ষায় টিসিএস (TCS), ইনফোসিস (Infosys), টেক মহিন্দ্রা, উইপ্রো এবং এমফেসিস-এর মতো ভারতের প্রথম সারির টেক জায়ান্টগুলির ওপর নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বেশি সতর্কতামূলক করে তুলেছে এই সংস্থা।
সিএলএসএ-র সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার প্রথাগত আইটি পরিষেবা খাতের প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে অটোমেশন এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার আইটি কোম্পানিগুলোর প্রথাগত আয়ের উৎসে সরাসরি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক মডেলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই বহুজাতিক সংস্থাগুলির শেয়ারের পারফরম্যান্স নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত প্রযুক্তিনির্ভর আয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং এআই সংস্করণের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন লড়াইয়ের জেরে আইটি খাতের প্রবৃদ্ধি আগামী দিনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই সিএলএসএ তাদের নতুন রেটিং নীতি ঘোষণা করেছে। ব্রোকারেজ ফার্মটি দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি জায়ান্ট যেমন—টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস এবং টেক মহিন্দ্রাকে ‘হোল্ড’ (Hold) রেটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বড় বিনিয়োগ না করে পরিস্থিতি বুঝে অপেক্ষা করা উচিত।
পাশাপাশি, আরও বেশি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উইপ্রো (Wipro) এবং এমফেসিস (Mphasis)-এর মতো সংস্থাকে ‘আন্ডারপারফর্ম’ (Underperform) রেটিং দিয়েছে সিএলএসএ। আর্থিক বাজারের বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রযুক্তি জগতের এই দ্রুত রূপান্তরপর্বে যে সমস্ত কোম্পানি নিজেদের এআই-নির্ভর পরিকাঠামোয় পুরোপুরি রূপান্তরিত করতে ব্যর্থ হবে, তাদের মুনাফার মার্জিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, সিএলএসএ-র এই সাবধানবাণী দেশের টেক শেয়ার বাজারে এক নতুন উদ্বেগের আবহ তৈরি করেছে, যার জেরে লগ্নিকারীরা এখন আরও বেশি সতর্ক ও হিসেবি হয়ে পা ফেলছেন।