‘চবন্নী’ মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা! অখিলেশ যাদবকে কড়া ভাষায় পালটা নিশানা আরএলডি নেতৃত্বের

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক মহলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের কথার লড়াই চরমে পৌঁছাচ্ছে। সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব নাম না করেই রাষ্ট্রীয় লোক দলের (আরএলডি) প্রধান জয়ন্ত চৌধুরীকে ‘চবন্নী’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। এই মন্তব্যের পরেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ক্ষুব্ধ আরএলডি নেতৃত্ব এবং জাঠ সমাজ অখিলেশ যাদবের এমন আক্রমণাত্মক ভাষার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

আরএলডি-র রাজ্য সভাপতি রাজা ঐশ্বর্য রাজ সিং অখিলেশ যাদবকে কড়া ভাষায় সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, তাঁর এই ধরনের অনর্গল ও আক্রমণাত্মক ভাষা পরিহার করা উচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু ভাষার মার্জিত রাখাই রাজনৈতিক শালীনতার অঙ্গ। তিনি অখিলেশকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, সমাজবাদী পার্টির মূল শিকড় এবং রাজনৈতিক উৎপত্তি চৌধুরী চরণ সিংয়ের আদর্শ ও চিন্তাধারার হাত ধরেই হয়েছে। মুলায়ম সিং যাদবের রাজনৈতিক যাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দুই দলের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল এবং এই ধরণের কুরুচিকর মন্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নষ্ট করছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে অখিলেশ যাদব জোট রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন যে তাঁরা অনেককেই বড় জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলেন, তবুও তারা দল ছেড়ে চলে গেছে। মূলত ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই এই মন্তব্য করা হয়। সেসময় জয়ন্ত চৌধুরীকে নিয়ে নানা জল্পনা চলেছিল এবং পরবর্তীতে আরএলডি এনডিএ জোটে যোগ দেয়। বর্তমানে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জয়ন্ত চৌধুরী।

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট আরএলডি নেতা অনিল কুমার অখিলেশ যাদবের এই বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি কেবল জয়ন্ত চৌধুরীর ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং তা দেশের বিশিষ্ট কৃষক নেতা চৌধুরী চরণ সিংয়ের আদর্শ এবং গোটা কৃষক সমাজের অবমাননা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই তীব্র বাকযুদ্ধ উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।