ডায়াপার নাকি অন্য কিছু? মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘পশ্চাৎদেশ’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হলো শোরগোল!

আমেরিকার রাজনীতিতে অদ্ভুত বিতর্কের বা খবরের কোনো কমতি নেই। শুল্ক, রাজনৈতিক অভিযোগপত্র, নির্বাসন, যুদ্ধ, নির্বাচন কিংবা প্রেসিডেন্টের ঘুম—ওয়াশিংটনের চেনা মেনুতে এসব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু এই সপ্তাহে ইন্টারনেটের সমস্ত নজর কেড়ে নিয়েছে এর চেয়েও অনেক বেশি অদ্ভুত ও চটকদার একটি বিষয়—ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের নিচের অংশ বা পশ্চাৎদেশ। সম্প্রতি নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মঞ্চ থেকে হেঁটে চলে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা ও হাসির রোল শুরু হয়েছে। দর্শকদের মূল নজরে আসে, তাঁর স্যুট জ্যাকেটের পিছনের দিকে অদ্ভুত আকৃতির একটি ফোলা অংশ রয়েছে। বিদায়ী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন। তিনি এটিকে ব্রঙ্কসে একটি বিপথগামী গুলিতে নিহত ১২ বছরের এক কিশোরের পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তের ভিডিও হিসেবে শেয়ার করেছিলেন।
কিন্তু ইন্টারনেটের ভাবনাচিন্তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ ভিডিওটি জুম করে দেখতে শুরু করলেন। তারপর আরও ক্লোজ করে জুম করলেন। আর ঠিক তখনই ইন্টারনেটের পুরনো স্বভাব অনুযায়ী, কোনো কিছু যাচাই করার সুযোগ না দিয়েই একের পর এক অদ্ভুত তত্ত্ব ছড়াতে শুরু করল। মানুষের মনে প্রশ্ন জাগল, তাঁর জ্যাকেটের নীচে কি সত্যিই কিছু গুঁজে রাখা হয়েছিল? নাকি স্যুটটি ঠিকভাবে ফিট হয়নি? এটি কি কোনো গোপন চিকিৎসা-সংক্রান্ত যন্ত্র বা প্রাপ্তবয়স্কদের কোনো ডায়াপার? কেউ কেউ আবার একে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট বলেও দাবি করলেন। এই ভিডিওটি মূলত ওই ফোলা অংশটির আসল কারণ পরিষ্কার করেনি। ফুজেটটি পরীক্ষা করে ‘বাজফিড’ জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের জ্যাকেটের পিছনের অংশ কেন এমন উঁচু হয়ে রয়েছে তা নিশ্চিত নয়। কাপড় কুঁচকে যাওয়া বা ব্লেজার ঠিকমতো ফিট না হওয়ার সাধারণ সম্ভাবনা থাকলেও নেটদুনিয়ার ফরেনসিক তদন্ত তাতে থামেনি।
সাংবাদিক অ্যারন রুপার এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, স্যুটের নিচে কি কোনো ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে? এরপর দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমালোচক জর্জ কনওয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও কটাক্ষপূর্ণ জবাব দিয়ে বলেন, এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাঁর এই রসিকতাটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের ইনকন্টিনেন্স বা মল-মূত্র ধরে রাখতে সমস্যার জন্য ব্যবহৃত প্রোডাক্টের একটি ব্র্যান্ডের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল। টেনিস কিংবদন্তি মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেন যে এটিকে একটি বড় ডায়াপারের মতো দেখতে লাগছে। আর এভাবেই ইন্টারনেট তার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট-সংক্রান্ত নতুন তদন্তের বিষয় খুঁজে পেল। এই ঘটনাটি এতটাই ট্রাম্পসুলভ যে, ওই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের দেওয়া আসল রাজনৈতিক বক্তব্য অনলাইন আলোচনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যায়।
ইন্টারনেট দ্রুত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল—একদল রহস্যময় আকৃতি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে তত্ত্ব দিচ্ছেন, একদল শুধু রসিকতা করছেন এবং অন্যদল সবাইকে ট্রাম্পের পশ্চাৎদেশের দিকে তাকানো বন্ধ করার অনুরোধ জানাচ্ছেন। রসিকতার পাশাপাশি কসমেটিক সার্জারি নিয়ে জল্পনাও কম হয়নি। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে যে এই ক্লিপটি ট্রাম্পের স্বাস্থ্য এবং সম্ভাব্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে এক নতুন খোরাকের ঢেউ তৈরি করেছে। যদিও এর পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের চিকিৎসক দল কেউই নিশ্চিত করেনি যে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার পরেছিলেন।
তাহলে মানুষ কেন এই বিষয়টি নিয়ে এত বেশি আগ্রহী? কারণ ট্রাম্প তাঁর শারীরিক উপস্থিতিকেই একটি বড় রাজনৈতিক বিষয়বস্তুতে পরিণত করতে অত্যন্ত দক্ষ। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। হাতে কালশিটে, গোড়ালির ফোলা ভাব বা জনসমক্ষে ক্লান্তি ও ঘুমিয়ে পড়ার মতো বিষয়গুলো মানুষের নজর এড়ায় না। এই সমস্ত পটভূমিই প্রতিটি নতুন ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন তত্ত্বর জন্ম দেয়। অদ্ভুত দেখতে স্যুটের একটি সাধারণ ভাঁজও মুহূর্তের মধ্যে মিম ও খবরের শিরোনামে পরিণত হয়।