সুটকেস খুলতেই শিউরে উঠল পুলিশ! দিল্লির বুরারিতে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য

দিল্লির বুরারি এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা রাজধানীজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। একটি লাল সুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে এক নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত ও মৃতদেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সুকৌশলে নাবালিকাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার দেহ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত অবিনাশকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রকাশ্য দিবালোকে বা জনবহুল এলাকায় কীভাবে এমন হাড়হিম করা অপরাধ সংঘটিত হল, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত একটি গোপন সুনির্দিষ্ট খবর পুলিশের হাতে এসে পৌঁছায়। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অবিলম্বে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশের একটি বিশেষ দল। এরপর একটি সুনির্দিষ্ট ফাঁদ পেতে অভিযুক্ত অবিনাশকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশি জেরার মুখে অভিযুক্ত নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য এবং তার দেখানো পথ ধরেই অজিত বিহার এলাকা থেকে ওই সুটকেসটি উদ্ধার করে পুলিশ, যা মূলত নাবালিকার মৃতদেহ সুকৌশলে লুকিয়ে ফেলার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
পুলিশ পরিদর্শক বিশ্বেন্দ্র চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিহত ওই নাবালিকা সম্প্রতি কাজের সূত্রে বা অন্য কোনো কারণে বিহার থেকে রাজধানীতে এসেছিল। প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে চাঞ্চল্য আরও দ্বিগুণ হয়েছে। এই নৃশংস অপরাধের মূলচক্রী বা প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অন্য কারও হাত নেই, বরং খোদ নিহতের এক নিকটাত্মীয়ই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে এবং কী কারণে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো, তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি বিশেষজ্ঞ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করে। পুলিশ নাবালিকার মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আসল কারণ ও সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তারা এখন ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি, নিহত ওই নাবালিকা মৃত্যুর আগে কোনো ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরিষ্কার হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের পরিবারে গভীর শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে, তার জন্য ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।