সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত! শতরান করে ফলো অন এড়াল শ্রীলঙ্কা, গলে চালের আসনে টিম ইন্ডিয়া!

গলের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে শুরু থেকেই নিজের পেস বোলিংয়ের আগুন ঝরিয়েছিলেন তারকা পেসার মহম্মদ সিরাজ়। এরপর পিচের চরিত্র বদলাতে না বদলাতেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেন ভারতীয় স্পিন ত্রয়ী। প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রানের বিশাল পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় মাত্র ৯০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দল। সেই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারত বিশাল লিড নেবে কি না এবং প্রতিপক্ষকে ফলো অন করাবে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত হিসেবনিকেশ পাল্টে দিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সোনাল দিনুশা এবং অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার নিরোশান ডিকওয়েলা। এই জুটির দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ফলো অন এড়াতে সক্ষম হয় লঙ্কানরা।

ম্যাচের শুরুতে স্লিপে কে এল রাহুল যখন নিরোশান ডিকওয়েলার সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন, তখন হয়তো কেউ ভাবেনি এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে লঙ্কান দল এমন লড়াকু কামব্যাক করবে। জীবনদান পাওয়ার পর জীবনের অন্যতম সেরা ফর্মে ব্যাট করে ডিকওয়েলা ব্যক্তিগত ৮০ রানের একটি মূল্যবান ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, সোনাল দিনুশা অবিস্মরণীয় এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন। এই দুই ব্যাটারের লড়াকু জুটিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থামে ২৮৪ রানে। ফলে ফলো অন এড়াতে সফল হয় তারা। ঐতিহাসিকভাবে ২০০১ সালের সেই বিখ্যাত ইডেন টেস্টের পর থেকে সাধারণত দলগুলো প্রতিপক্ষকে ফলো অন করানোর পথে হাঁটতে চায় না, আর শ্রীলঙ্কার এই জুটি সেই আশঙ্কাও চিরতরে দূর করে দেয়।

ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে ভারতীয় দল প্রথম ইনিংসের সুবাদে ১৭৮ রানের শক্তপোক্ত লিড হাতে নিয়েছে। এখন খেলার আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় শুভমন গিলদের মূল লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত গতিতে অন্তত দেড়শো রান বোর্ডে তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেওয়া। যাতে চতুর্থ ইনিংসে গলের এই স্পিন-সহায়ক ভাঙা উইকেটে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের সামনে সাড়ে তিনশো রানের কঠিন লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেওয়া যায়। ভারতের সফল বোলিং লাইনআপে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার, যিনি একাই ৪ উইকেট শিকার করে ভারতের সফলতম বোলার হয়েছেন। এছাড়া বল হাতে অনবদ্য পারফর্ম করে ৫৭ রান খরচ করে ৩টি মূল্যবান উইকেট তুলে নেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা। আর এই ৩ উইকেট নেওয়ার মাধ্যমেই টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সাড়ে তিনশো উইকেটের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেন জাডেজা, যার ফলে তিনি কিংবদন্তি ক্রিকেটার কপিল দেবের এক অনন্য নজিরের সমকক্ষ হয়ে গেলেন।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অত্যন্ত এলিট ক্লাবে প্রবেশ করলেন রবীন্দ্র জাডেজা। টেস্ট ফরম্যাটে যাঁদের ঝুলিতে ৪ হাজার বা তার বেশি রান এবং সাড়ে তিনশো বা তার বেশি উইকেট রয়েছে, সেই তালিকায় এবার নাম লেখালেন জাডেজা। ভারতের হয়ে এই বিরল নজির এর আগে মাত্র চারজন কিংবদন্তির নামের পাশেই ছিল—অনিল কুম্বলে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, কপিল দেব এবং হরভজন সিং। অর্থাৎ, জাডেজা হলেন ভারতের পঞ্চম ক্রিকেটার যিনি এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন। বর্তমান টেস্টের আগে জাডেজার নামের পাশে ছিল ৪,০৯৫ রান এবং ৮৯ ম্যাচে ৩৪৮টি উইকেট। লঙ্কান ব্যাটার কেশারা নুয়ান্থাকে সাজঘরে ফিরিয়েই তিনি নিজের টেস্ট কেরিয়ারের বহুকাঙ্ক্ষিত ৩৫০তম উইকেটটি শিকার করেন। উল্লেখ্য, বিশ্ব ক্রিকেটে কপিল দেবের টেস্টে ৫,২৪৮ রান ও ৪৩৪ উইকেট রয়েছে। ক্রিকেট ইতিহাসে কপিল ও জাডেজা ছাড়াও বিশ্বের মাত্র দু’জন অলরাউন্ডার এই জোড়া মাইলফলকের মালিক—ইংল্যান্ডের ইয়ান বথাম (৫,২০০ রান ও ৩৮৩ উইকেট) এবং নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেত্তোরি (৪,৫৩১ রান ও ৩৬২ উইকেট)।