সন্তান না হওয়ায় ‘বন্ধ্যা’ বলা কি অপরাধ? এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে বড় মোড়!

সন্তান না হওয়া নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ‘বন্ধ্যা’ বলে কটাক্ষ করা অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও নিন্দনীয় হলেও, আইনি ভাষায় তা ‘নিষ্ঠুরতা’ বা ক্রুয়েলটি হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পেশায় এক সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের জারি করা সমনের নির্দেশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। সাম্প্রতিক এই রায়কে কেন্দ্র করে আইনি মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের দীর্ঘ তিন বছর পরেও সন্তান না হওয়ায় পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। মহিলার অভিযোগ ছিল, সন্তান না হওয়ার কারণে তাঁকে প্রতিনিয়ত শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পাশাপাশি তাঁর স্বামীও বিদ্রুপ করতেন এবং তাঁকে ‘বন্ধ্যা নারী’ বলে অপমান করতেন। শুধু তাই নয়, জোরপূর্বক ডাক্তারি পরীক্ষা না করানোর অভিযোগ এবং পরবর্তীতে শ্বশুর ও দেওরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত স্বামী। মামলার শুনানি করেন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্ল। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর বিচারপতি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যেই দাম্পত্য কলহ এবং কুরুচিকর মন্তব্য আদান-প্রদান হতো। সন্তানহীনতার কারণে কটূক্তি করা নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর, কিন্তু উপলব্ধ প্রমাণের নিরিখে তা ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৯৮-এ ধারার অধীনে ‘নিষ্ঠুরতা’ বা গুরুতর অপরাধের মাপকাঠিতে পড়ে না।
আদালত আরও জানিয়েছে, পারিবারিক বিবাদ, চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানানো বা সন্তান না হওয়া নিয়ে কটূক্তির মতো বিষয়গুলো ৪৯৮-এ ধারার আইনি শর্তাবলী পূরণ করে না। তাছাড়া, ওই মহিলা বিয়ের সময় পণ সংক্রান্ত যে সমস্ত অভিযোগ এনেছিলেন, তাতে সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ, সময় বা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। ফলে পণ নিরোধক আইনের ধারাগুলোও এই মামলার ক্ষেত্রে যথাযথ নয় বলে মত দিয়েছে আদালত। সব দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত স্বামীর আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা সমন বাতিল করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।