মমতার সরাসরি ফোন! বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর খুন নিয়ে কী বার্তা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী?

সোমবার সকালে সিজেপি আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বাঁকুড়ায় নিহত কর্মীর বাড়িতে উপস্থিত হয় ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর স্থানীয় প্রতিনিধি দল। নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে গিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিনিধি দলের মারফত সরাসরি ফোন করে নিহতের ছেলের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকস্তব্ধ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনার মাঝেই রাজ্যের অপর এক প্রান্তে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের রাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর বিতর্কিত সাংসদ মহুয়া মৈত্র। গভীর রাতে কৃষ্ণনগরের ওই সার্কিট হাউস খালি করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সংসদীয় দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস দিয়েছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা অভিযোগে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়াই নয়, বরং এর পেছনে নদিয়ার জেলাশাসক-সহ মোট তিন জন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকের প্রত্যক্ষ মদত ও হাত রয়েছে। তাই ওই তিন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। পাশাপাশি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও সংসদীয় মর্যাদা বজায় রাখতে স্পিকারের কাছে সার্বিক নিরাপত্তার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে বাঁকুড়ার খুন এবং কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউস কাণ্ড— এই দুই জোড়া ঘটনায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।