তেজস্বী সূর্যকে হটিয়ে বড় চমক বিজেপির! যুব মোর্চার নতুন জাতীয় সভাপতি কে হলেন?

দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ ও দাবির আবহে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তাদের সাংগঠনিক স্তরে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর রদবদল ঘটিয়েছে। লোকসভা সাংসদ তেজস্বী সূর্যকে ‘ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা’ (BJYM)-র জাতীয় সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থای়ী এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে ভদোদরার তরুণ ও উদীয়মান সাংসদ হেমং যোশীর কাঁধে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুবসমাজ ও ‘জেন-জি’ প্রজন্মের মন জয় করতে এবং দলের সাংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করতে বিজেপির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ নিজের বিদায়ী বার্তায় তেজস্বী সূর্য জানান যে ১৪ বছর আগে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে শুরু করা তাঁর এই রাজনৈতিক যাত্রা জাতীয় সভাপতির পদ পর্যন্ত পৌঁছাবে, তা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা এবং বি.এল. সন্তোষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লেখেন যে পদ বা উপাধি বদলালেও বিজেপির যুব মোর্চার আদর্শ আমৃত্যু মনে গেঁথে থাকে।

নতুন যুব মোর্চা সভাপতি হেমং যোশী ১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারি গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগতভাবে একজন তরুণ আইনপ্রণেতা ও ফিজিওথেরাপিতে উচ্চশিক্ষিত যোশীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ভদোদরার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্কুল কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক পথচলা শুরু হয়। এরপর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দলীয় সিঁড়ি বেয়ে তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিলে ভদোদরা থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সরকারি প্রতিনিধি দল থেকে শুরু করে গুজরাট বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সুশিক্ষিত, মৃদুভাষী, প্রযুক্তি-সচেতন এবং বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হেমং যোশী গুজরাটি, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় অত্যন্ত সাবলীল। ভদোদরায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত “ডিজিটাল এমপি অফিস” সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন সারা দেশের তরুণ প্রজন্মের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে সঠিক দিশা দেখানোর বিরাট দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে তাঁরই কাঁধে।